২০ মার্চ, অনলাইন ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তারা। দুই ডজনের বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ছাড়াও ভারতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন নয়াদিল্লির সরকারের মেয়াদে শেখ হাসিনার প্রথম এই সফরে থাকছে নানান চমক। এর অনেক কিছুই দুই দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘটতে যাচ্ছে।

ভারত সামরিক খাতে বাংলাদেশকে যে পাঁচ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে যাচ্ছে এমন নজির নেই দেশটিতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে রাখার সিদ্ধান্তও নজিরবিহীন। এর আগে কোনো বিদেশি প্রধানমন্ত্রীকে সফরকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে থাকতে দেয়নি ভারত। তবে সবকিছু ছাপিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে অভ্যন্তরীণভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে নয়াদিল্লি। এখনো বাংলাদেশকে নিশ্চয়তা দেওয়া না হলেও শুধুই তিস্তা ইস্যুতে সিরিজ বৈঠক ডেকেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। নতুন করে দরকষাকষি শুরু করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে। চলতি সপ্তাহেই মুখ্যমন্ত্রী মমতার সঙ্গে আলোচনার জন্য অবস্থানপত্র তৈরি করিয়েছেন সুষমা স্বরাজ ও উমা ভারতীকে দিয়ে। সফরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য আরও বাড়াতেই তিস্তা চুক্তির বিষয়ে এ উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন ঢাকা ও দিল্লির কূটনীতিকরা।

কূটনৈতিক সূত্রের খবর, আগামী ৭ থেকে ১০ এপ্রিল ভারতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন সফরকে সামনে রেখে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কর্মকর্তারা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ও শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে দুই মন্ত্রী ভারত সফর করেছেন। আগামী ২ এপ্রিল নয়াদিল্লি সফরে যাবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থমন্ত্রী আসন্ন সফরে প্রস্তাবিত পাঁচ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র যুক্ত হবে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত মানোন্নয়ন, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি, সরঞ্জাম সংগ্রহসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে জানা যায়। এসব বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত ঢাকা আসবেন ৩০ মার্চ। তিন দিনের সফরে তিনি বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকের আমন্ত্রণে সফরকালে জেনারেল বিপিন রাওয়াত কয়েকটি কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন। ভারতীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিও ঢাকায় আসতে পারেন।

নয়াদিল্লি সূত্র জানায়, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণেই সাত বছর পর দ্বিপক্ষীয় সফরে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, বাণিজ্য, নৌ চলাচল, সীমান্ত, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি, সমঝোতা স্বাক্ষরের মাধ্যমে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিশেষত নিরাপত্তা খাতে ভারত প্রথমবারের মতো পাঁচ বিলিয়ন ডলার অন্য কোনো দেশকে ঋণ সহায়তা হিসেবে দিতে যাচ্ছে। তবে বাংলাদেশের রাজনীতি ও জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তিস্তা চুক্তির বিষয়েও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে এই সফরে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ১৯৭১ সালের ‘ওয়ার হিরো’দের সম্মাননা দেবেন। প্রায় চার হাজার ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রাণ হারান। ৯ এপ্রিল দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে ওই যুদ্ধে নিহতদের স্বজনদের হাতে শেখ হাসিনা সম্মাননা তুলে দেবেন।

Share

আরও খবর