৪ মার্চ, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে ৫০তম সমাবর্তনে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ভর্তি ফরম না পাওয়ার গল্প শুনিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পেরেও তিনি যে সেখানে চ্যান্সেলর হিসেবে এসেছেন সেটিকে ‘আল্লাহর লীলা খেলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে ৫০তম সমাবর্তনে লিখিত বক্তব্যের মাঝে নিজের স্বভাব-সুলভ হাসিমুখে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ একের পর এক মজার গল্প আর ঘটনা শুনিয়েছেন উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অতিথিদের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসেবে আসা তার কাছে অবাক লাগে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি ম্যাট্রিক থার্ড ডিভিশন। আইএ পাস করছি এক সাবজেক্ট… লজিকে রেফার্ড। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন আসলাম ভর্তি হওয়ার জন্য তখন ভর্তি তো দূরের কথা, ভর্তির ফরমটাও আমাকে দেয় নাই। বন্ধু-বান্ধব অনেকে ভর্তি হইল, ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে তখন আমি যুক্ত। ভর্তি যখন হইতে পারলাম না, তখন দয়ালগুরুর কৃপায় গুরুদয়াল কলেজে (কিশোরগঞ্জে) ভর্তির সুযোগ পেয়ে গেলাম।’

এ সময় সমাবর্তনস্থলে হাসির রোল পড়ে যায়।

আবদুল হামিদ বলেন, ‘বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশগ্রহণ করতাম। প্রায়ই ঢাকা আসতে হতো। বিভিন্ন হলে থাকতাম। এমন কোনো হল নাই তখনকার সময়ে যেখানে ঢুকি নাই। অবশ্য রোকেয়া হলে ঢুকি নাই। তবে রোকেয়া হলের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করেছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘আল্লাহর কী লীলা খেলা বুঝলাম না, যেই ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হইতে পারলাম না, সেইখানে আমি চ্যান্সেলার হইয়া আসছি। বাংলাদেশে যতগুলি পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আছে, সবগুলির আমি চ্যান্সেলর। প্রায়ই সমাবর্তনে যেতে হয়। দেড়-দুই ঘণ্টা ক্যাপ-গাউন পরে থাকতে হয়। আর এর মধ্যে বাতাসই ঢুকতে পারে না। গরম যখন থাকে তখন অবস্থা কাহিল।’

বিএ পরীক্ষা সময়ে জেল খাটার অভিজ্ঞতা শুনিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, ‘ছাত্র খারাপ ছিলাম ঠিকই। বিএ পরীক্ষার সময় দুইবার জেলে ছিলাম। পরীক্ষা দিতে পারি নাই। বাড়ির লোকজন কথা বলে। চিন্তা করলাম… আইয়ুব খান-মোনায়েম খানের বিরুদ্ধে আন্দোলন তুঙ্গে। কিশোরগঞ্জে বিরাট জনসভা। বললাম, ভাইসব যতদিন আইয়ুব খানকে উৎখাত করতে না পারব, ততদিন পর্যন্ত আমি বিএস পাস করতে চাই না।’

বর্তমান ছাত্রনেতাদের বেশি বয়সের চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নিজের কথা কী বলব, ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়াই বিয়া একখান কইরা ফালাইছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র সংগঠনের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারির বয়স ৪৫-৫০ বছর। এই যদি বয়স হয়…। ২৫-২৬ বছর বিয়ার বয়স ধরা হয়। ২৫ বছরে কেউ যদি বিয়া করে, তাহলে ৫০ বছর বয়সে তার এক সন্তানেরই তো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কথা। বাপ-পুত মিলাই ইউনিভার্সিটিতে থাকার কথা। বাপ নেতা আর ছেলে ছাত্র। এটা হইতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘এই ছাত্ররাজনীতি যারা করে, তাদের রেগুলার ছাত্র হতে হবে। ৫০ বছর বয়সে যদি নেতৃত্ব দেয়, তাহলে যারা পড়ে তাদের সঙ্গে অ্যাডজাস্টমেন্ট হবে না। সুতরাং ডাকসু নির্বাচন ইজ অ্যা মাস্ট। নির্বাচন না হলে তাহলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে শূন্যতার সৃষ্টি হবে।’

রেলমন্ত্রী বেশি বয়সে বিয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এখন বলতে পারেন, কিছুদিন আগে রেলমন্ত্রী বিয়া করছেন… (নিজেও হেসে ওঠেন এ সময়)। এটা রেয়ার কেস। অসময়ের কিছু সবসময় ভালো হয় না। মৌসুমের কাঁঠাল যে মজা লাগে পরের কাঁঠাল এত মজা লাগে না।’

এ সময় পুরো অনুষ্ঠানস্থলে হাসির প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়।

তরুণ বয়সে চিঠি লেখার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রেমপত্র লিখতাম… তখন বিভিন্ন বই থেকে দেইখা কোটেশন তুইলা…এখন প্রেমপত্রও লেখা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন মেসেজ। প্রেমপত্র লেখাও সাহিত্য।’

পরে রাষ্ট্রপতি তার লিখিত বক্তব্য শেষ করেন।

Share

আরও খবর