ডেঙ্গু হলে অনেক সময় চোখের সমস্যাও দেখা দিতে পারে এবং আমরা জানি সচরাচরদৃষ্ট উপসর্গগুলোর মাঝে চোখের পেছনে ব্যাথা একটি। এবছর আমাদের দেশেও অনেকেরই ডেঙ্গু হয়েছে। চোখের সমস্যা সংক্রান্ত কোন তথ্য আমাদের হাতে এ মুহুর্তে না থাকলেও সিঙ্গাপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মাঝে এক গবেষণায় চোখের জটিলতায় আক্রান্ত রোগীর মাঝে ৯২.৩% রোগীর দৃষ্টিশক্তিতেও সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ডেঙ্গুতে নানা ধরনের চোখের জটিলতা দেখা দিতে পারে। কোনো কোনো জটিলতা দীর্ঘমেয়াদীও হতে পারে।

একটু জেনে নেয়া যাক চোখে কি কি সমস্যা হতে পারেঃ 

চোখে ব্যথা, চোখ লাল: জ্বরের শুরুতে চোখের পেছনে ব্যথা, চোখে সার্বক্ষণিক অস্বস্তি বা আলোর দিকে তাকাতে অস্বস্তি, চোখ লাল ইত্যাদি হতে পারে। এতে ভয়ের কিছু নেই। দুই বা তিন দিনের মধ্যে নিজে নিজেই এটি সেরে যায়। এসময় চোখে অযথা হাত দেয়া উচিত নয় ।

চোখের ভেতর রক্তক্ষরণ: ডেঙ্গু জ্বরের একটি জটিলতা হলো রক্তে প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা কমে যাওয়া। দেহের নানা জায়গায় রক্তক্ষরণের মতো চোখেও রক্তক্ষরণ হয়ে থাকে সেটা চোখের ভেতরে বা পেছনে রেটিনায় হতে পারে। এই রক্তক্ষরণ বিভিন্ন মাত্রায় হতে পারে যেমন ছোট ছোট বিন্দুর মত বা অনেকটা জায়গা জুড়ে, তীব্রভাবে প্রচুর পরিমাণে কিংবা মৃদু ও ধীরে ধীরে। সাধারণভাবে এটি বোঝা যায় না। তবে চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা করে বিষয়টি নির্ণয় করতে পারেন। জ্বরের পাঁচ থেকে সাত দিনের মাথায় এটি হতে পারে।

ম্যাকুলোপ্যাথি: রেটিনার কেন্দ্রীয় এলাকা ম্যাকুলা নামে পরিচিত। এই এলাকা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সঠিক কারণ জানা না গেলেও ধারণা করা হয়, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় জটিলতার কারণে ম্যাকুলোপ্যাথি বা ফোভিওলাইটিস বা চোখের পেছনে প্রদাহ হতে পারে। ফলে দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা হতে পারে। এই সমস্যা নিজে নিজে সেরে যেতে পারে, আবার দীর্ঘমেয়াদিও হতে পারে। তাই সতর্ক থাকা উচিত।

অন্যান্য জটিলতা: ডেঙ্গুর কারণে ইউভিআইটিস (চোখের একধরনের প্রদাহ), সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অকলুশন, প্যানঅফথালমাইটিস, স্নায়ুগত সমস্যা, সাব-হাইলয়েড হেমোরেজ ইত্যাদি জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

কী করবেন?

■ জ্বরের প্রথম দিন থেকেই যে চোখে ব্যথা, লাল চোখ বা চোখে অস্বস্তি ও খচখচানি থাকে, তার জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। ব্যথার জন্য প্যারাসিটামলই যথেষ্ট। প্রচুর পানি পান করতে হবে। সাধারণত দুই-তিন দিনের মাথায় এই উপসর্গগুলো কমে যায়।

■ চার দিন পরও চোখের ব্যথা, ঝাপসা দেখা, অস্বস্তি ইত্যাদি রয়ে গেলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

■ প্রত্যেক ডেঙ্গু রোগীর, বিশেষ করে যাদের প্লাটিলেট কমেছে, জ্বরের সাত দিনের মাথায় একবার চোখ পরীক্ষা করানো ভালো। কেননা, এ সময়ই ম্যাকুলোপ্যাথি, ফোভিওলাইটিস বা ইউভিআইটিস-জাতীয় প্রদাহ হয়ে থাকে। এ ছাড়া যেকোনো সময় দৃষ্টিশক্তি কমে এলে বা ঝাপসা দেখতে শুরু করলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

■ প্লাটিলেট বিপজ্জনক মাত্রায় কমে গেলে শরীরের অন্যান্য স্থানের মতো চোখেও রক্তক্ষরণ হতে পারে। তাই চোখ দেখাতেও ভুলবেন না।

 ডেঙ্গুজনিত বেশির ভাগ চোখের সমস্যা স্বল্পমেয়াদি। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে, দৃষ্টিশক্তি বিনষ্টও হতে পারে। কাজেই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শমতো চিকিৎসা নিতে হবে।

তথ্যসূত্রঃ IEDCR

 

Share

আরও খবর