৩০ মার্চ, অনলাইন ডেস্কঃ মুরগির ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটাতে বসে গেছেন তিনি।

এই তিনি হলেন ফ্রান্সের অদ্ভুত সব কলাকৌশল প্রদর্শনকারী শিল্পী আব্রাহাম পয়ঁচেভাল। প্যারিসে পালাইস ডি টোকিও জাদুঘরে একটি কাচঘেরা কক্ষে বসে ডিমে তা দিচ্ছেন তিনি।

জাদুঘরের দর্শনার্থীরা পয়ঁচেভালের এই অদ্ভুত কাণ্ড দেখছেন, ছবি তুলছেন। কোনো দিকে ভ্রূক্ষেপ না করে গরম কাপড় গায়ে জড়িয়ে তা দেওয়া মুরগির মতো ঝিম ধরে বসে আছেন। শরীরের সব তাপ যেন উৎসর্গ করতে চাইছেন ডিমগুলোর গরম হওয়ার জন্য।

পয়ঁচেভাল তার শরীরের তাপ দিয়ে মুরগির ১০টি ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটানোতে একনিষ্ঠ হয়ে বসে গেছেন। যতক্ষণ ডিম ফেটে বাচ্চা বের না হচ্ছে, ততক্ষণ তিনি ক্ষান্ত হবেন না। তবে প্রতিদিন মাত্র আধা ঘণ্টা তা দেওয়া থেকে বিরত হয়ে খাওয়া দাওয়া সেরে নেবেন। এ ছাড়া আর কোনো বিরাম নেই আগামী প্রায় তিন সপ্তাহ।

কত দিন লাগবে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বের করতে- অনেকে এমন প্রশ্ন করছেন। পয়ঁচেভালের পক্ষে জানানো হয়েছে, তিনি আশা করছেন ২১ থেকে ২৬ দিনের মধ্যে ডিমগুলো ফুটে বাচ্চা বের হবে। তারপর শেষ হবে তার কর্মযজ্ঞ।

নিজের এ কাজ সম্পর্কে পয়ঁচেভাল বলেছেন, ‘বড় করে বলতে গেলে আমি সত্যিই মুরগি হয়ে গেছি।’

তা দিতে পয়ঁচেভাল সরাসরি ডিমের ওপর বসেননি। যে চেয়ারে বসে তিনি তা দিচ্ছেন, সেই চেয়ারের সিটের নিচে বিশেষ কায়দায় পাত্রের মতো একটি জায়গা করে নিয়েছেন, যাতে ডিমগুলো তার শরীরের তাপ পায়।

শরীরের তাপ বাড়ানোর জন্য যে বিশেষ কাপড় জড়িয়ে আছেন পয়ঁচেভাল, তা তৈরি করেছেন কোরীয় শিল্পী সেগলুই লি। তিনি পরিকল্পনা করেছেন, যেসব খাবার দেহের তাপ বাড়ায় (যেমন জিঞ্জার), সেসব খাবেন তিনি। যাতে যথাসময়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন তিনি।

আব্রাহাম পয়ঁচেভালের অদ্ভুত কর্মকাণ্ডের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো : প্যারিসের গার্দ দু নর্দ রেলস্টেশনের বাইরে ৬৫ ফুট উঁচু একটি খুঁটির মাথায় এক সপ্তাহ অবস্থান, কর্কযুক্ত একটি বড় প্লাস্টিকের বোতলে নদী ভ্রমণ, ভল্লুকের ভাস্কর্যের মধ্যে ১৩ দিন অবস্থান, মাটির গর্তে এক সপ্তাহ অবস্থান।

তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন।

Share

আরও খবর