১৯ মে, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার শেষ সাত মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শিবিরের মাইকেল ফ্লিন ও অন্যান্য উপদেষ্টারা রাশিয়ার কর্মকর্তা ও ক্রেমলিন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অন্তত ১৮ বার গোপনে টেলিফোন ও ইমেইল আদান-প্রদান করেছেন। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

রেকর্ডে থাকা আগের গোপন কয়েকটি যোগাযোগ এখন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ও কংগ্রেসের তদন্ত কমিটি পর্যালোচনা করছে।

বর্তমান ও সাবেক তিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগের ছয়টি গোপন যোগাযোগের মধ্যে রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলায়াক এবং ট্রাম্পের প্রথম নিরাপত্তা উপদেষ্টা ফ্লিনসহ অন্য উপদেষ্টাদের কাছে করা ফোন কল।

চার মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ফ্লিন ও রাশিয়ার মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিসলায়াকের মধ্যে কথাবার্তা আরও ত্বরান্বিত হয়েছিল ৮ নভেম্বর নির্বাচনের পর। সে সময় তারা দু’জন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এড়িয়ে ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের মধ্যে যোগাযোগের জন্য একটি গোপন চ্যানেল চালু করা নিয়ে কথা বলেছিলেন। সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই পক্ষই বিষয়টি প্রতিকূল বলে বিবেচনা করেছিল।

ফোনকল ও ইমেইলে ১৮ বার যোগাযোগ হয়েছিল ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে নভেম্বরের মধ্যে। জানুয়ারিতে মার্কিন নির্বাচন রুশ হ্যাকারদের কবলে পড়েছিল বলে উপসংহার টেনেছিল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা। ওই হ্যাকিংয়ের কারণেই ভোট ট্রাম্পের হিলারি ক্লিনটন ট্রাম্পের কাছে হেরে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

রয়টার্সকে ট্রাম্প শিবির এবং রাশিয়ার মধ্যে গোপন যোগাযোগের তথ্য দেওয়া কর্মকর্তারা অবশ্য বলেছেন, এ পর্যন্ত ওই যোগাযোগগুলো খতিয়ে দেখে দু’পক্ষের মধ্যে কোনও অন্যায় বা আঁতাতের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে গোপন যোগাযোগের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় ২০১৬ সালের নির্বাচনের সময় রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পূর্ণ তথ্য এফবিআই ও কংগ্রেসকে দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

গোপন এসব যোগাযোগের ব্যাপারে হোয়াইট হাউজ কোনও মন্তব্য করেনি। মাইকেল ফ্লিনের আইনজীবীও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাও এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

Share

আরও খবর