ফায়ারআই ১১ মার্চ, ডেস্ক রিপোর্টঃ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা কোম্পানি ফায়ারআইয়ের ম্যানডিয়েন্ট ফরেনসিক বিভাগের সহযোগিতা নিচ্ছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ইতিহাসের বড় কয়েকটি সাইবার চুরির ঘটনার তদন্ত করা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সিলিকন ভ্যালির প্রতিষ্ঠান ফায়ারআইকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড ইনফরমেটিক্স’ ফায়ারআইকে এই তদন্তে সম্পৃক্ত করেছে বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ইনফরমেটিক্সের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী রাকেশ আস্তানাই এর প্রতিষ্ঠাতা, যিনি এক সময় বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি বিভাগে পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।

বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় নিজের পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া ঘটনা তদন্ত করতে আস্তানাই ম্যানডিয়েন্টকে ভাড়া করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানান, নিউইয়র্কের ফেডারেল রিভার্জ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা তদন্তে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। তিনি আরও জানান, বিশ্বের ইতিহাসে ব্যাংকের টাকা চুরির অন্যতম বড় এই ঘটনার তদন্ত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) কর্মকর্তা ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে কথা বলেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ লোপাটের ঘটনাটি গত সপ্তাহে প্রকাশ্যে আসে, যদিও তার প্রায় একমাস আগে চুরির এই ঘটনা ঘটে। অবশ্য এ নিয়ে এফবিআই, মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস, বিচার বিভাগ ও মার্কিন অর্থমন্ত্রণালয়ের ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্কের প্রতিনিধিরা কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্তৃপক্ষের যেকোনো ধরনের তদন্তেই মূল লক্ষ্য থাকবে সাইবার অপরাধীরা কীভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেটওয়ার্কে প্রবেশ করলো তা খতিয়ে দেখা। একই সঙ্গে লোপাট হওয়া অর্থ বিশ্বের কোন কোন দেশে নেওয়া হয়েছে এবং তা উদ্ধার করা সম্ভব কি-না সেটাও খতিয়ে দেখবে মার্কিন তদন্তকারীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট মেসেজিং সিস্টেমের সব তথ্য হাতিয়ে নেয়। এরপর তারা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অর্থ স্থানান্তরের জন্য নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে প্রায় তিন ডজন অনুরোধ পাঠায়। এর মধ্যে চারটি অনুরোধের বিপরীতে ফিলিপাইনের কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৮১ মিলিয়ন ডলার পাঠায় নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ। পঞ্চম আদেশে শ্রীলঙ্কার একটি এনজিওর অ্যাকাউন্টে আরও ২০ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হলেও ওই এনজিওর নামের বানান ভুল থাকায় সন্দেহ হলে তা আটকে দেওয়া হয়।

এদিকে নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃপক্ষ কেবল বলেছে, এ ঘটনার তদন্তে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করছে তারা। তাদের দাবি, এই জালিয়াতির জন্য তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হ্যাকাররা ভাঙতে পারেনি।

Share

আরও খবর