২৯ ডিসেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ চলতি বছরের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) এবং প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশ করা হবে।

এদিন সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করবেন।

এর আগে শিক্ষাবোর্ডগুলোর চেয়ারম্যান এবং শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জেএসসি ও জেডিসির ফলাফলের কপি প্রধানমন্ত্রীর হাতে হস্তান্তর করবেন।

একই দিনে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।

পরে শনিবার দুপুর ২টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

দুপুর ১টায় সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মো. মোস্তাফিজুর রহমান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করবেন।

গণশিক্ষামন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পর দুপুর ২টায় সকল জেলা ও উপজেলায় স্ব স্ব পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে ফল প্রকাশের ব্যবস্থা নিতে বলেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এ ছাড়া প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ফল শিক্ষা অধিপ্তরের ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd অথবা http://dperesult.teletalk.com.bd এ পাওয়া যাবে। যেকোনো মোবাইল হতে এসএমএসের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ফলাফল জানা যাবে।

নভেম্বরের শুরুতে দেশব্যাপী ২ হাজার ৮৩৪টি পরীক্ষা কেন্দ্রে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট ২৮ হাজার ৬২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৪ লাখ ৬৮ হাজার ৮২০ জন পরীক্ষার্থী এ দুটি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৭৮ জন ছাত্র এবং ছাত্রী ১৩ লাখ ২৪ হাজার ৪২ জন। গত বছরের তুলনায় এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫৬ হাজারেরও বেশি। এজন্য পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ১০০টি বাড়ানো হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের বাইরে সৌদি আরব, লিবিয়া, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), বাহরাইন ও ওমানের মোট নয়টি কেন্দ্রে ৬৫৯ জন শিক্ষার্থী এ বছরের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় অংশে নিয়েছে।

এবার থেকে জেএসসির পরীক্ষার্থীদের শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা এবং চারু ও কারুকলা বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে এই বিষয়গুলোর ওপর শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়ন করে স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের নম্বর পাঠায় সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে। এরপর সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র পরীক্ষার সময় বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনের মাধ্যমে ধারাবাহিক মূল্যায়নের প্রাপ্ত নম্বর এন্ট্রি করে পাঠায়। তবে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের এই তিন বিষয়ের পরীক্ষা দিতে হয়েছে।

এ ছাড়া নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা বহু নির্বাচনী (এমসিকিউ) অংশে ৩০ নম্বর এবং সৃজনশীল অংশে ৭০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়েছে। অনিয়মিত পরীক্ষার্থীরা বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) অংশে ৪০ নম্বর এবং সৃজনশীল অংশে ৬০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়েছে।

বাংলা দ্বিতীয়পত্র, ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র ছাড়া অন্য সব বিষয়ের পরীক্ষা হয়েছে সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে।

এবার নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা চতুর্থ বিষয়সহ ১০টি পত্রে ৮৫০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়েছে। বহু নির্বাচনী ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে দুটি বিভাগ থাকলেও দুটি অংশ মিলে ৩৩ পেলেই পাস বলে গণ্য হবে। এসএসসির মতো দুই অংশে আলাদাভাবে পাসের প্রয়োজন নেই।

অপরদিকে, গত ১৯ নভেম্বর থেকে ২৬ নভেম্বর প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ৭ হাজার ২৬৭টি এবং বিদেশের ১২টি কেন্দ্রে একযোগে শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

সারা দেশে মোট প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনীতে ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ নেয়।

এবার ২ হাজার প্রাথমিকে ৯৫৩ জন এবং ইবতেদায়িতে ৩৭৯ জন ‘বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন’ পরীক্ষার্থী অংশ নেয় । এই শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় দেওয়া হয়।

Share

আরও খবর