১৮ জানুয়ারি, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দীর্ঘ এক বছর যাবৎ ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা বহিরাগত ভুয়া ছাত্রীকে সহযোগিতার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বহিষ্কৃত আল-আমিন হোসেন (শাহেদ) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৪২ ব্যাচের শিক্ষার্থী। বুধবার রাতে এক জরুরি সিন্ডিকেটের মিটিংয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মিটিং শেষে রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক এ তথ্য জানান।

রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক জানান, সিন্ডিকেটে আল-আমিন হোসেন নামের ওই শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার ছাড়াও তার বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বহিরাগত মেয়েকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে অধ্যাপক রাশেদা আক্তারকে প্রধান করে চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার মোফসেনা ত্বাকিয়া নামের এক বহিরাগতকে আটক করা হয়। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে নিজেকে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী পরিচয়ে উক্ত বিভাগে নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছিলেন। পরে প্রক্টর অফিসে জিজ্ঞাসাবাদে প্রকাশ পায় তিনি জাবিতে ভর্তি হননি। অভিযুক্ত মোফসেনা ত্বাকিয়ার গ্রামের বাড়ি শেরপুরের নলিতাবাড়ি।

ত্বাকিয়া দাবি করেন, তিনি ২০১৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তবে মেধা তালিকায় স্থান না পেলেও অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিলেন। ওই শিক্ষার্থীর নানা মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় আল-আমিন হোসেন শাহেদ ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখান। পরে তিনি ২০ হাজার টাকা দেন। পরে শাহেদ একটি ফর্ম দেয়। সেটি তিনি পূরণ করেন। এরপর থেকে তিনি নিজেকে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে জেনে আসছিলেন। এ ছাড়া তিনি বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষায়ও নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন। তবে তিনি জানতে পারেননি যে তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ নন।

এদিকে, আল-আমিন হোসেন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোনো দোষ করিনি। ওই মেয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।’

Share

আরও খবর