২০ সেপ্টেম্বর, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম ভাষণের কড়া সমালোচনা করেছে কয়েকটি সদস্য দেশ।

ইরান, ভেনেজুয়েলা, সুইডেন, বলিভিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ ট্রাম্পের ভাষণের সমালোচনা করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, যদি কোনো হামলা চালায় তাহলে উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম ভাষণে মঙ্গলবার এ হুমকি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে এটিই ট্রাম্পের সোজাসাপটা ভাষায় প্রথম হামলার হুমকি।

পরিষ্কার ভাষায় ট্রাম্প বলেছেন, পরমাণু হুমকির মাধ্যমে পিয়ংইয়ং যদি যুক্তরাষ্ট্রের নিজের ও তার মিত্রদের রক্ষায় বাধ্য করে, তাহলে উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে।

উত্তর কোরিয়ার হুমকিকে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মহান শক্তি ও ধৈর্য আছে কিন্তু তারা যদি আমাদের ও আমাদের মিত্রদের রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে, তাহলে উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি ধ্বংস করা ছাড়া আর কোনো গতি থাকবে না।’

তবে ট্রাম্পের হুমকির বিরুদ্ধে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি উত্তর কোরিয়া। এর আগে নিষেধাজ্ঞার জবাবে তারা বলেছিল, এর ফলে তাদের পরমাণু কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের কৌতুকি নাম ব্যবহার করে ট্রাম্প বলেন, ‘রকেট ম্যান নিজের জন্য আত্মহত্যার মিশনে আছেন।’ সম্প্রতি এক টুইটে উনকে ‘রকেট ম্যান’ হিসেবে অভিহিত করেন ট্রাম্প। উনের পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের দুই মিত্র জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া চাপের মুখে রয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কার্যক্রম, তাদের হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষাসহ দেশটি পরমাণু অস্ত্রের সম্প্রসারণ করে যেসব হুমকি সৃষ্টি করেছে, তা নিয়ে বুধবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প জাতিসংঘে তার ভাষণে উত্তর কোরিয়ার পাশাপাশি ইরানকেও আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ‘যদি ভালোরা মিলে কতিপয় নষ্টের বিরুদ্ধে লড়াই না করে, তাহলে শয়তানের জয় হবে।’ তিনি আরো বলেন, উত্তর কোরিয়া বিশ্বকে বিপদে ফেলছে। পরমাণু ও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে দেশটি তাদের পথে এগিয়ে যাক, বিশ্বের কোনো দেশ তা চায় না।

উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর প্রতি ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। তবে চীনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এটি এক ধরনের অন্যায্য যে, এমন একটি দেশের সঙ্গে কিছু দেশ শুধু ব্যবসা করছেই না, তারা তাদের অস্ত্র দিচ্ছে ও অর্থনৈতিক সমর্থন দিচ্ছে এবং এর ফলে বিশ্ব বিপদগ্রস্ত হচ্ছে।’

ইরানের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, জাতিসংঘের সমর্থনে তাদের সঙ্গে যে পরমাণু চুক্তি হয়েছে, তা এখন পর্যন্ত যেকোনো সময়ের চেয়ে বাজে ও একপেশে চুক্তি।

Share

আরও খবর