১৯ সেপ্টেম্বর, অনলাইন ডেস্কঃ একবেলা ভাত খেয়ে আরেকবেলা না খেলেই অনেকে কাতর হয়ে পড়েন। কিন্তু ভারতের সরস্বতী বাই গত ছয় দশক ধরে একবারের জন্যও ভাত খাননি। তবে যারা ভাবছেন ভাত না খেয়ে উনি হয়ত রুটি বা অন্য কিছু খাওয়ার অভ্যাস করে বেঁচে আছেন, তাদের জন্য বিস্ময়ের শেষাংশ এখনো বাকি। কারণ মধ্যপ্রদেশের সুন্দ্রাইল গ্রামের পঁচাত্তর বছর বয়সি এই নারী গত ষাট বছরে ভাত তো দূরের কথা কোনো ধরনের শস্য জাতীয় ও কঠিন খাবারও মুখে তোলেননি। এই দীর্ঘ সময়ে শুধুমাত্র চা এবং পানি পান করে বেঁচে আছেন তিনি।

তবে তিনি জন্ম থেকেই যে এভাবে চা-পানি পান করে বেঁচে আছেন তা নয়, ঘটনার শুরু ১৯৫৭ সালে। সরস্বতীর বয়স তখন মাত্র পনের বছর। বিয়ের পর সবেমাত্র প্রথম সন্তানের মা হয়েছেন। এমন সময় টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হন। পাকস্থলীতে তীব্র ব্যথা অনুভব করার কারণে তিনি তখন কিছুই খেতে পারতেন না। বেশ কিছুদিন এভাবে যাওয়ার পর তিনি যখন সুস্থ হলেন তখন দেখলেন খাবারের প্রতি তার কোনো রুচি নেই। তখন থেকেই দিনে শুধুমাত্র কয়েক বার চা এবং পানি খেয়ে তিনি বেঁচে আছেন। তবে মাঝে মাঝে তিনি একটি করে কলা খান। তাও সপ্তাহে একটি আবার কোনো সপ্তাহে একদমই না।

এই ধরনের অদ্ভুত খাদ্যাভাস নিয়ে যেখানে সরস্বতীর হাসপাতালের বিছানায় থাকার কথা সেখানে তিনি বেঁচে আছেন বেশ সুস্থ স্বাভাবিকভাবে। একে একে পাঁচ সন্তানের মা হয়েছেন। সন্তানের লালন-পালন থেকে শুরু করে কৃষি কাজে স্বামীকে সাহায্য করা- কোনোটাই বাদ দেননি তিনি। এবং পঁচাত্তর বছর বয়সেও তিনি দিনে পাঁচ ঘণ্টা কাজ করেন।

নিজের খাদ্যাভাস পরিবর্তনের জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন সরস্বতী। অসংখ্য ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েছেন। কিন্তু কোনো কিছুতেই যখন কিছুই হয়নি তখন এভাবে বেঁচে থাকাটাকেই বেছে নিয়েছেন। সরস্বতীর স্বামী দরকাপ্রসাদ বলেন, আমরা অনেক চেষ্টা করেছি তাকে খাওয়ানোর। কিন্তু তাকে কোনোভাবেই খাওয়ানো যায় না। সে শুধু চা এবং পানি খেয়ে দিব্যি সুস্থ আছে।

Share

আরও খবর