১৮ নভেম্বর, অনলাইন ডেস্কঃ  চট্টগ্রামের পাথরঘাটার বড়ুয়া ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ এবং সাতজন নিহতের ঘটনায় গ্যাস লাইনের কোন ত্রুটি নেই বলে দাবি করেছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিক তদন্তে গ্যাস লাইনে কোন ত্রুটি পাওয়া যায়নি বলে তারা জানিয়েছে। গ্যাসের জন্য নয় অন্য কোন কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে বলে কর্ণফুলী গ্যাসের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (কেজিডিসিএল) এর মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং ও সার্ভিসেস) প্রকৌশলী সারোয়ার হোসেন জানান, ভয়াবহ এই বিস্ফোরণ ঘটনার পর পরই কেজিডিসিএল চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

কমিটি সাথে সাথেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন, গ্যাস লাইনের সার্বিক অবস্থা এবং টেকনিক্যাল নানা বিষয় পর্যবেক্ষণ এবং সরেজমিন তদন্ত করে দেখে। এতে গ্যাস লাইনে কোথাও কোন ত্রুটি পাওয়া যায়নি।

সারোয়ার হোসেন আরো জানান, আমাদের তদন্তে গ্যাসের লাইনের কোথাও লিকেজ পাওয়া যায়নি। মূল লাইনের রাইজার অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। যে বাসা থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে সেই বাসার রান্নাঘরে গ্যাসের চুলার সঙ্গে সংযোগ লাইনও অক্ষত রয়েছে। এতে আমরা নিশ্চিত গ্যাস লাইনের কারণে বা গ্যাসের কারণে কোন বিস্ফোরণ ঘটেনি। এছাড়া রান্না ঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটলে রান্নাঘর ক্ষতিগ্রস্থ হত। কিন্তু সেই রান্নাঘরও অক্ষত আছে। কিন্তু পাশের আরেকটি কক্ষে বিস্ফোরণ ঘটেছে যে কক্ষের নিচে সেফটি ট্যাংক রয়েছে। এতে আমরা নিশ্চিত হয়েছি গ্যাস বা গ্যাস লাইন নয় অন্য কোন কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে।

কেজিডিসিএলের চার সদস্যের তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং ও সার্ভিসেস) প্রকৌশলী সারোয়ার হোসেনকে, উপ-মহা ব্যবস্থাপক (কোয়ালিটি কন্ট্রোল) প্রকৌশলী আহসান হাবিব, উপ-মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) প্রকৌশলী আবু জাহের এবং উপ- মহাব্যবস্থাপক (প্লানিং) প্রকৌশলী শফিউল আলম। এই কমিটি গতরাতেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

এদিকে গ্যাস কর্তৃপক্ষ ছাড়াও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, নগর পুলিশও আলাদা আলাদাভাবে বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্ত করছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করবে।

উল্লেখ, রোববার নগরীর কোতোয়ালি থানার পাথরঘাটা বড়ুয়া ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দেয়াল চাপা পড়ে নারী ও শিশুসহ সাতজন নিহত এবং নয়জন গুরুতর আহত হন। এই ঘটনায় সমগ্র চট্টগ্রামে এক শোকাবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

Share

আরও খবর