শাহজামান শুভগত ০৬-০৬-২০১৫ তারিখে আমি শিক্ষা ভ্রমনে যুক্তরাজ্য ঘুরে আসি। এই ভ্রমনে পরিচিত হই এক নতুন সংস্কৃতি আর সমাজ ব্যবস্থার। আর সেই অভিজ্ঞতার ভান্ডার থেকে কিছু  কথা তুলে ধরার আমার এই ছোট্ট প্রয়াস।

ঢাকা থেকে কাতার এয়ারলাইন্সে ঢাকা টু কাতার এবং কাতার টু হিত্রো হয়ে আমি ও আমার সফর সঙ্গীরা যুক্তরাজ্য আসি। আমাদের সকাল ৮টায় ফ্লাইট, বাড়ি থেকে একদিন আগেই যাওয়া উচিত কিন্তু আমার সফরসঙ্গী আমাদের বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক বললেন, বাড়ি থেকে রাত ২টায় (০৫-০৬-২০১৫ রাত) রওয়ানা দিলে ভাল হয়। আমি কোন দ্বিমত না করলেও মন কেন জানি দূরদূর করছিল কারণ যদি সঠিক সময়ে বিমান বন্দরে না পৌছতে পারি তাহলে আমার ফ্লাইট বাতিল। কিন্তু বস ইস অলওয়েজ রাইট, তাই স্যারের কথাই মেনে ০৫-০৬-১৫ তারিখ বিকেল বেলা জামা-কাপড় এবং ট্যাব-ল্যাপটপ ঘুছিয়ে নিনাম। বাসার সবাই বলল, এখন ঘুমানোর জন্য কিন্তু আমার ঘুম আসছিল না। রাত ১টা ২০মিনিটে আমি, ভাই-ভাবী ও আব্দুল আজিজ ভাই কড়িকান্দি বাজারের দিকে রওয়ানা দিলাম। কড়িকান্দি বাজারে স্যারের (মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ভূইয়া) জন্য অপেক্ষা করলাম। বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হল না। স্যার একটা প্রাইভেটকারে আসলেন। আমি ভাইয়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে স্যারের পিছনের সিটে বসলাম।

আমরা বিমান ছাড়ার চার ঘণ্টা আগেই বিমানবন্দরে পৌঁছলাম। আর বিমান বন্দরে মিলিত হলাম আমাদের টিমের অপর তিনজন রতন বশাক, পীযুষ মজুমদার ও জোতিষ রায়ের সাথে। আমরা মোট পাঁচজনের একটি টিম যাবো যুক্তরাজ্যের লিঙ্গকনশ্যায়ারে। অপর একটি দলের প্রধান জনাব মজিবুর রহমান স্যারের দেখা হল। মজিবুর রহমান স্যার অন্য দুজন স্যারের সাথে আমাদেরকে পরিচয় করে দিলেন। বিমান ছাড়ার ২ ঘন্টা আগেই আমাদের বোডিং পাশ,ইমিগ্রেশনসহ বডি-চেক সম্পূর্ণ করতে হল।

বিমানে আমাদের সিটগুলো পাশাপাশি ছিল, পীযুষ মজুমদার জানালার পাশের সিটে, তার পাশেই রতন বশাক। আমি, জোতিষ ও প্রধান শিক্ষক মাঝখানের সীটে বসলাম। বিমানে একটি ইংরেজি মুভি দেখলাম। বিমান কাতারে অবতরণ করল। কাতারের দোহার বিমান বন্দরে যখন নামলাম তখন স্থানীয় তাপমাত্রা ৪০। বিমান থেকে বাসে ইমিগ্রেশনে আসলাম। শুরু হল চেকের পালা। আমার গলার ব্যাগে ট্যাব, ল্যাপটপ ছিল। ব্যাগ থেকে আলাদা করে ট্যাব, ল্যাপটপ আরেকটি ঝুড়িতে চেকিং মেশিনে দিতে হল। চেকিং পর আমি একটি সীটে বসে জুতা পায়ে দিলাম, হেডস্যার কৌতুক করে বল্লেন, “ওনার ভদ্রলোক আমাকে জুতা খুলতে বলে নাই”। কারন আমার ও জোতিষের জুতা খুলে চেকিং পার হতে হয়েছিল। কাজেই এই জুতা খোলা এবং হেড স্যারের কৌতুক নিয়ে বেশ হাসাহাসি হল।

দোহা এয়ারপোর্টে এসে আমরা দুটি ভাগে ভাগ হলাম। আমরা পাঁচজন যাব হিথ্রো আর মুজিব স্যারের গ্রুপ  যাবে ম্যনচেস্টারে। আমরা পাচঁজন হিথ্রোর উদ্দেশ্যে ২ নং গেইটের দিকে যাচ্ছি। ২নং গেইটে এসেই আমার মনে হল আমি ল্যাপটপ চেকিং-এ ফেলে এসেছি। আমি চেকিং পাশের দিকে আবার দৌড়ালাম। আমি একটু টেনশন ফিল করলাম। আমি কোন চেকিং লাইন দিয়ে ভিতরে ঢুকলাম তা ভুলে গেছি। একজন ইয়ং এমিগ্রেশন অফিসার আমাকে সাহায্য করল। অফিসারটিকে আমার কাছ ইন্ডিয়ান মনে হল। এই অফিসার আমার চেকিং লাইন দেখিয়ে দিলেন। আমি আমার চেকিং লাইন গিয়ে বললাম, আমার ল্যাপটপ ভুলে ফেলে গেছি। একজন অফিসার আমার ল্যাপটপে নাম জানতে চাইল। আমি বললাম স্যামস্যাং। অপর একজন অফিসার আমাকে ল্যাপটপ দিয়ে ওপেন করে চেক করতে বললেন। আমি ল্যাপটপ ওপেন করে স্ক্রিনে আমার ছেল-মেয়ের ছবি দেখিয়ে বললাম, এটা আমার ছেলে আর মেয়ের ছবি। এবার অফিসার বিশ্বাস করলেন এটা আমার ল্যাপটপ।

(চলবে…)

মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
আন্তর্জাতিক কো-অর্ডিনেটর,
বাতাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়, তিতাস, কুমিল্লা।

Share

আরও খবর