অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত৬ জুলাই, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ক্ষুদ্রঋণ এ দেশে নতুন কিছু নয়। বহু আগে থেকেই গরিব জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নে ক্ষুদ্রঋণ চালু হয়েছিল। কুমিল্লায় আকতার হামিদ খান চালু করলেও ড. ইউনূস এটিকে যে একটি সিস্টেমে এনেছেন, সেটা বলতেই হবে।

তবে গ্রামীণ ব্যাংককে আরও গতিশীল করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ড. ইউনূসের জন্য তা সম্ভব হচ্ছে না। তার লোকজন দিয়ে মামলা করায় গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সরকারের উদ্যোগ থমকে আছে।

সোমবার সচিবালয়ে ‘ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম ২০১৪-২০১৫’ এবং ‘ন্যাশনাল স্ট্রাটেজি ফর প্রিভেন্টিং মানি লন্ডারিং অ্যান্ড কম্ব্যাটিং ফাইন্যান্সিং অব টেরোরিজম’ শীর্ষক দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদসহ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও চার নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বই দুটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলম।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্রঋণ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ক্ষুদ্রঋণকে দেশের প্রতিটি গ্রামে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (আইআরডিবি) মাধ্যমে সে কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছিল। তখন আখতার হামিদসহ আমরা যারা সে সময় সরকারি কর্মকর্তা ছিলাম, এর বিরোধিতা করেছিলাম। এখন বোঝা যায়, বঙ্গবন্ধুর চিন্তাভাবনা কতটা দূরদর্শী ছিল। কথা স্মরণ না করলে চলে না। তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ড. ইউনূস সেটাকেই অনুসরণ করেছিলেন বলে গ্রামীণ ব্যাংক আজ এ পর্যায়ে এসেছে।

মুহিত বলেন, ‘আমি এখনও বলছি, আমাদের কোন শেয়ারবাজার ছিল না। যা ছিল ফাটকা কারবারিদের বাজার। এখানে একশ্রেণির লোক ফাটকাবাজারি করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। তারা মনে করত, টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতিদিনই লাভ হবে। কিন্তু শেয়ারবাজারের চরিত্র তা নয়। এ বাজারে ওঠানামা হবেই। তবে দেশের শেয়ারবাজার এখন অনেকটাই ঠিক হয়ে এসেছে। গত পাঁচ বছর এ নিয়ে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। অনেক সংস্কার হয়েছে, আইন হয়েছে। এখন শেয়ারবাজার স্থিতিশীল অবস্থায় এসেছে।’

মুহিত বলেন, আর্থিক বাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এ খাতে সুষম উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইতিমধ্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের প্রয়োজনীয়তা সংশোধনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকির ক্ষমতা বাড়ানোসহ এ কার্যক্রমকে আধুনিকীকরণ ও জোরদার করা হয়েছে। দেশে উন্নত ঋণসংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে উত্তম ঋণ পরিশোধকারীদের প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পাঁচ বছর ধরে মানি লন্ডারিং নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন সংশ্লিষ্টরা। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ব্যবস্থা বলতে আমাদের কিছুই ছিল না। আমাদের আগের সরকার একটি আইন করে গেছে। তার পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা থেকে চাপ আসতে শুরু করে। এক পর্যায়ে আমাদের কালো তালিকাভুক্ত করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তারা মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে নতুন করে আইন করতে বলে, আমরা সেটাও করেছি।’

তিনি বলেন, ২০১৫-২০১৭ মেয়াদে একটি কৌশলপত্রের ১১টি সুনির্দিষ্ট কৌশলগত উদ্দেশ্যের বিপরীতে ১১টি কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে।

Share

আরও খবর