২১ এপ্রিল, অনলাইন ডেস্কঃ ভারতে অন্ধ্র প্রদেশের একটি গ্রাম কাইরুপ্পালা। প্রতি বছর এখানে গরুর শুকনো গোবরের লড়াই হয়।

সেই গোবর দেখতে অনেকটা কেকের মতো হলেও তা খুব শক্ত। আর এ দিয়ে একে অপরকে ঢিল ছোড়ে গ্রামবাসী। এতে আহতও হয় অনেকে। গ্রামের বাসিন্দারা বিশ্বাস করে এই উৎসব তাদের জন্য সুস্বাস্থ্য ও ধন সম্পদ নিয়ে আসে।

হিন্দুরা বিশ্বাস করেন- ভগবান শিবের এক রূপ ভগবান বীরভদ্র স্বামী, তিনি দেবী ভদ্রকালির প্রেমে পড়ে তাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে মজা করার জন্যই বীরভদ্র কখনো বিয়ে করবেন না ঘোষণা দেন। এতে ক্ষুদ্ধ হন ভদ্রকালি। তিনি ও তার স্বজনরা বীরভদ্রের এমন ছলনাপূর্ণ আচরণের উচিৎ শিক্ষা দিতে তাকে শুকনো গোবর দিয়ে ঢিল মারা শুরু করেন। বীরভদ্রও পাল্টা জবাব দেন শুকনো গোবর দিয়ে। এক পর্যায়ে দু’পক্ষ সমঝোতার মাধ্যমে ওই লড়াই শেষ করে। পরে বীরভদ্র ও ভদ্রকালির স্বর্গীয় বিয়ে হয়। এখনো তাই কাইরুপ্পালায় ওই দেব-দেবীর ভক্তরা একইভাবে একে অপরের দিকে শুকনো গোবর ছুড়ে লড়াই করে।

গ্রামের কেন্দ্রস্থলে গোবরের শত শত শুকনো টুকরো স্তূপ করে রাখা হয়। এরপর কয়েক হাজার মানুষ বীরভদ্র ও ভদ্রকালির অনুসারী হয়ে দুটি দলে ভাগ হয়ে একে অপরের দিকে শুকনো গোবরের টুকরো ছুড়ে মারে। অংশগ্রহণকারীদের এক হাতে থাকে গোবরের টুকরো আর অন্য হাতে থাকে আত্মরক্ষার তোয়ালে। আর পার্শ্ববর্তী ভবন ও গাছের ওপর উঠে তাদের এই লড়াই নিরাপদ দূরত্বে থেকে দেখে অন্যরা।

একজন লড়াই শুরুর নির্দেশনা দেন। এর পর শুরু হয় গোবর ছোড়াছুড়ি। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলে এই লড়াই। এতে যারা আহত হয়, তাদের গ্রামের মন্দিরে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এবার আহত হয়েছে ৫০ জনের মতো গ্রামবাসী। তবে আহত হলেও এই উৎসবের মূল লক্ষ্যই হলো আনন্দ। তাই লড়াইটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই শেষ হয় সব সময়।

এই উৎসব অবশ্য ভারতের দুটি গ্রাম পান্দুরনা ও সাওয়ারগাঁওয়ে প্রচলিত গোতমার মেলার চেয়ে ভিন্ন। ওই দুই গ্রামে প্রতি বছর দু পক্ষের মাঝে পাথর ছোড়া খেলা হয়। এতে আহত হয় অনেকে, এমনকি মারাও যায় কেউ কেউ।

Share

আরও খবর