১১ এপ্রিল, লাইফস্টাইল ডেস্কঃ পয়লা বৈশাখ মানেই উৎসবে মাতামাতি। এদিন পোশাক থেকে শুরু করে সাজসজ্জায় এমনকি অন্দরসাজ বা অতিথি আপ্যায়নেও প্রকাশ পায় বাঙালিয়ানা।

ঢাকা শহরের বেশ কিছু জায়গায় মাটির হাঁড়ি থেকে শুরু করে ঘর সাজানোর নানা ধরনের জিনিস পাওয়া যায়। বৈশাখ উপলক্ষে দোকানে এসেছে নতুন রকমারি উপকরণ। এর মধ্যে রয়েছে মাটির হাঁড়ি, কলস, সানকি-প্লেট, মাটির বাটি সেট, মগ, জগ, লবণদানি, বাঁশের তৈরি কুলা, চালুনি, খলুই, হাতপাখা, বেতের ঝুড়ি, পাটের শিকা, রঙিন রশি, নারকেলের খোলের চামচ, বাটি এবং নানা ধরনের ঘর সাজানোর পণ্য। আছে একতারা, দোতারা ও ডুগডুগি।

বাংলা নববর্ষ মানেই হচ্ছে বাংলা সংস্কৃতির ছোঁয়া, তাই এমন দিনে ঘরের চারপাশে থাকতে হবে বাংলার শৈল্পিক নিদর্শন। তাই ব্যবহার করুন দেশীয় অন্দরসজ্জার জিনিসপত্র। বসার ঘরের একপাশে পেতে দিতে পারেন শতরঞ্জি। তার ওপর ছড়িয়ে দিতে পারেন নকশীর কাজ করা কুশন।

বৈশাখ মানেই সারি সারি মুখোশ নিয়ে চারুকলার মঙ্গলশোভাযাত্রা, ঘরেও সেই আমেজ আনার জন্য করতে পারেন মুখোশের ব্যবহার। দেয়ালে ঝুলিয়ে দিতে পারেন নকশা আঁকা মুখোশ বা ডালা। মাটির গৃহসজ্জার নানা উপকরণ পাবেন অতি সহজেই আর কম দামে, যা রেখে দিতে পারেন ঘরের এক কোণায়।

বিভিন্ন আকৃতির মাটির পটারিতে রাখা যেতে পারে বিভিন্ন রঙের ফুল এবং ইনডোর প্লান্টস। শুধু মাটির পটারিতে নয়, গাছের শিকড় দিয়ে নান্দনিকভাবে তৈরি ফুলদানিতে শোভা পাবে পানিতে রাখা মানিপ্লান্ট। যেকোনো নতুনকেই আমরা ফুল দিয়ে বরণ করি, আর সবুজ আমাদের মনকে ভরিয়ে ফেলে প্রশান্তিতে পুরোনো সব জীর্ণতা বিদায় জানিয়ে ভোরের আলোয় নতুন প্রত্যয় নিয়ে সবাই বরণ করে নতুন বছরটি।

ভোরের আলোর প্রতীকরূপে মোমের আলোয় ঘরে আসে মঙ্গল বারতা। সে ক্ষেত্রে একটি মাটির পাত্রে পানি নিয়ে পছন্দমতো ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে তার মধ্যে জ্বালিয়ে রাখুন রংবেরঙের মোমবাতি। দেখুন, মোমের আলোর মায়াবিকতায় মুহূর্তেই কেমন পাল্টে গেছে ঘরের পরিবেশ।

বৈশাখের দিন শুধু বসার ঘরেই নয়, খাবার টেবিলেও থাকা চাই দেশীয় আমেজ। সে ক্ষেত্রে খাবার পরিবেশনে মাটির বাসনের বিকল্প কিছু নেই। মাটির থালা, বাটি, গ্লাস, জগ ইত্যাদি দিয়ে সাজিয়ে নিন খাবার টেবিলটি। টেবিলের মাঝখানে মাটির পাত্রে রাখুন তাজা ফুল। ন্যাপকিনগুলোকে কোণাকৃতিতে ভাঁজ করে রাখুন প্লেটের সামনে।

শৈল্পিকতার পরশে বছরের প্রথম দিনটিতেই আপনার মন ভরে উঠবে বাঙালিয়ানাভাবে, যা আপনাকে নিয়ে যাবে আমাদের সেই হাজার বছরের লোকজ সংস্কৃতির কাছাকাছি। সব মিলিয়ে দিনটিকে পালন করুন দেশীয় ধারায়।

Share

আরও খবর