আতিউর২৬ নভেম্বর, ন্যাশনাল ডেস্কঃ বুধবার ফিলিপাইনে বাংলাদেশ সময় বিকাল তিনটায় ফিলিপিন্স ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারের এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে গুসি আন্তর্জাতিক শান্তি পদক পুরস্কার-২০১৪ গ্রহণ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনীতিবিদ হিসেবে ড. আতিউর রহমানকে এ সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত করে ম্যানিলাভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান গুসি ফাউন্ডেশন। ড. আতিউর রহমান বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি এই সম্মানজনক এওয়ার্ড অর্জন করলেন। এওয়ার্ড প্রদান করেন গুসি পিস প্রাইজ ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার এস. গুসি। গত বছর বেসরকারি সংস্থা ডরপ এর প্রতিষ্ঠাতা এ এইচ এম নোমান দারিদ্র বিমোচন ও মানবহিতৈষী কাজে অবদান রাখায় এ পুরস্কার লাভ করেছিলেন।

অনুষ্ঠানে আমেরিকার সিনেটর এমানুল জন, গুসি পিস প্রাইজের চিকিৎসা টিমের সভানেত্রী ডা. ইভিলিন টানতামকো গুসি, ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব ট্রাস্ট্রি, সাবেক এওয়ার্ডি এবং আন্তর্জাতিক কমিটির সদস্যরা ছাড়াও দেশী বিদেশী প্রায় পাঁচ হাজার আমন্ত্রীত অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

পুরস্কার গ্রহণের সময় অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, “এ পুরস্কার আমার একার নয়, আমি যাদের জন্য কাজ করি এবং যাদের নিয়ে কাজ করি তাদের সবাই এর অংশীদার। দরিদ্রদের নিয়ে কাজ করার জন্যেই আমাকে গুসি শান্তি পদক দেয়া হয়েছে। প্রায় ছয় বছর আগে আমি যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নিই, তখন বাংলাদেশ ব্যাংককে মানবিক কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছিলাম। আজ সেটা অনেকটাই সফল হয়েছে। বাংলাদেশের এই সাফল্য সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।”

দশ টাকায় কৃষক, স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী, কর্মজীবী পথশিশু ও গার্মেন্টস শ্রমিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এর মাধ্যমে অসংখ্য খুদে উদ্যোক্তা তৈরি করা হয়েছে, যারা কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই ব্যাংক থেকে ঋণ পাচ্ছে।”

এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সঙ্গে অস্ট্রিয়া, চীন, কঙ্গো, জার্মানি, ভারত, ইরান, ইতালি, জাপান, লিথুনিয়া, নেপাল, নেদারল্যান্ড, ফিলিপাইন, পোল্যান্ড এবং সৌদিআরবের মোট ১৫ জনকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

গুসি পিস প্রাইজ ইন্টারন্যাশনাল, ফিলিপাইনের ১৯৭৪ রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশে গঠিত একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। এটি এশিয়ার মধ্যে প্রধানতম এওয়ার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। ২০০২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর নভেম্বর মাসের ৪র্থ বুধবার এওয়ার্ড প্রদান করে আসছেন। প্রতিষ্ঠানটি সুখ ও শান্তির জন্য দৃষ্টান্তমূলক অর্জন, মানবিক উদ্যোগ, পৃথিবী ব্যাপী অনুকরনীয় এমন অসাধারণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে শান্তি, মানবাধিকার, দারিদ্র্য বিমোচন, আবিস্কার, রাজনীতি, শিল্প, সাহিত্য, অর্থনীতি, একাডেমী, সাংবাদিকতা, মানবতা, রসায়ন, ধর্ম ক্ষেত্র ইত্যাদি বিষয়ে অবদান রাখার জন্য বিশ্বের অনন্য যোগ্য ব্যক্তিদের এই এওয়ার্ড প্রদান করে থাকে।

Share

আরও খবর