১৭ মার্চ, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রাজধানীর গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট করার দাবিতে এক বছর ধরে আন্দোলন করছেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা।

রাজধানীর গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষার্থীরা বলছেন, আমাদের একটাই দাবি, শিগগিরই এই কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউট করতে হবে। অন্যথায় ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেব না। গত ১১ মার্চ থেকে কলেজটিকে পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউট করার দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ নিয়ম অনুযায়ী ইনস্টিটিউট হতে পারে না। চাইলেই কলেজটি ইনস্টিটিউট হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর বিষয়টা নির্ভর করে।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করছে। সরকার আমাদের যে সিদ্ধান্ত জানাবে, আমরা সেটি ভেবে দেখব। কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নিতে পারি না। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ হিসেবে আমাদের যে দায়িত্ব আমরা সেটি পালন করে যাব। বাকিটা সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক হবে।’

গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধ্যক্ষ ফাতেমা সুরাইয়া বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট হলেই যে ঢাকা গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষার মান বাড়বে, বিষয়টি এ রকম নয়। শিক্ষার্থীরা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট করার দাবি করছে। কিন্তু কলেজের মানোন্নয়ন নিয়ে তাদের কোনো দাবি নেই।

তিনি আরো বলেন, এ পর্যন্ত আমাদের দুই দফা সভা হয়েছে। আমাদের কিছু সমস্যা আছে। কলেজের মানোন্নয়নের বিষয়ে সরকারকে জানাব। সরকার যে পদক্ষেপ নেবে আমরা সেটিই মেনে নেব। আমি আশা করি, শিক্ষার্থীরা যদি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে দাবি জানায়, তাহলে তাদের দাবি আদায় সহজ হতে পারে। কিন্তু ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন মোটেই ভালো নয়। কিন্তু তারা সেটি না করে রাস্তায় নেমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। এটি আমরা সমর্থন করি না। আমরা চাই দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে। এজন্য সরকার যেভাবে পরামর্শ দেবে, যে সিদ্ধান্ত দেবে, আমরা তা মেনে নেব।

দাবি আদায়ে গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর কলেজের অধ্যক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন, উপাচার্য ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর ৪ অক্টোবর নীলক্ষেত মোড় টানা ৯ ঘণ্টা অবরোধের পর শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে পলাশীতে ব্যানবেইসে দেখা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। গত ৯ মার্চ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করেন এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য ছাত্র ধর্মঘট ডাকেন। তারপর থেকে ধারাবাহিকভাবে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের পাশাপাশি টানা চার দিন নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করেন তারা।

Share

আরও খবর