ব্যর্থতা সাফল্যঅনেকেরই জানা তবুও একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে বলি। তিনি ২১ বছর বয়সে ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্থ হন, ২২ বছর বয়সে আইন সভার নির্বাচনে পরাস্ত হন। ২৪ বছর বয়সে আবার ব্যবসায় ব্যর্থ হন। ২৬ বছর বয়সে প্রিয়তমা মারা যায়। তিনি কংগ্রেসের নির্বাচনে পরাস্ত হলেন ৩৪ বছর বয়সে। হারের পথ তার শেষ হয়নি। ৪৫ বছর বয়সে হারলেন সাধারন নির্বাচনে। ৪৭ বছর বয়সে ভাইস প্রেসিডেন্ট হবার প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হলেন। ৪৯ বছর বয়সে আবার হারলেন সিনেট নির্বাচনে। এই লোকটিই কিন্তু ৫২ বছর বয়সে সে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। তিনি আর কেউ নন এযাতকালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সফল প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন।

১৮০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহন করে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত ব্যর্থতার এই লম্বা পথ অতিক্রম করে ১৮৬১- ১৮৬৫ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রেসিডেন্ট পদে আসীন থাকেন। তার বড় সফলতা হল তিনি ১৮৬৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা বিলুপ্ত করেন। ১৮৬৫ সালে ১৫ এপ্রিল উইলকস বুথ নামে এক আততায়ীর হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

আর একজন বিস্ময় বালকের কথা বলি। তিনি ৪ বছর বয়সে একদিন স্কুল থেকে ফিরে মায়ের হাতে একখানা চিঠি দিলেন যা লিখেছিলেন তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক। স্যার তার মাকে লিখেছিলেন “আপনার টমি এতই যে তার পক্ষে লেখাপড়া শেখা সম্ভব নয়। তাকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নিন।”

বালকটির মা প্রতিজ্ঞা করলেন “আমার টমি মোটেই বোকা নয়, আমি নিজেই আমার ছেলেকে পড়াব।”

এই টমি আর কেউ নয় সর্বকালের সেরা বিজ্ঞানীদের একজন টমাস আলভা এডিসন (ফেব্রুয়ারি১১, ১৮৪৭-অক্টোবর ১৮, ১৯৩১)। মাত্র তিন মাসের স্কুলজীবন এডিসনের। তিনি আংশিক বধিরও ছিলেন। তার নিজের নামে ১০৯৩টি মার্কিন পেটেন্টসহ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানিতে অসংখ্য প্যাটেন্ট রয়েছে। তিনি গ্রামোফোন, ভিডিও ক্যামেরা এবং দীর্ঘস্থায়ী বৈদ্যুতিক বাতি (বাল্ব) সহ বহু যন্ত্র তৈরি করেছিলেন যা বিংশ শতাব্দীর জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।

১৯১৪ সালে ৬৬/৬৭ বছর বয়সে টমাস এডিসনের কারখানায় আগুন লেগে কয়েক মিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি বিনষ্ট হয়। কারখানাটির বীমাও করা ছিল না। এই বিপর্যের পর এডিসন বললেন, “আমাদের সকল ভুল ত্রুটি পুড়ে ছাই হয়ে গেল। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ আমরা আবার নতুন করে শুরু করব।”

এই বিপর্যয়ের তিন সপ্তাহ পর তিনি ফোনগ্রাফ আবিস্কার করলেন। এই টমাস আলভা এডিসন বৈদ্যুতিক বাল্ব তৈরির জন্য সফল হবার আগে প্রায় ১০০০০( দশ হাজার) বার ব্যর্থ হয়েছিলেন।

বিশ্ববিখ্যাত ওয়াল্ট ডিজনি অনেক খবরের কাগজের সম্পাদকের কাছে প্রত্যাখ্যাত হন। তারা বলেছিলেন ডিজনির কোন প্রতিভা নাই। পরবর্তীতে এই প্রতিভাহীন লোকটিই মিকি মাউস চরিত্রটি তৈরি করে বিশ্ববিখ্যাত হন। হন ডিজনিল্যান্ডের মালিক।

হেনরি ফোর্ড তো গাড়ি তৈরি করতে গিয়ে প্রথম গাড়িটিতে ব্যাক গিয়ার দিতে ভুলে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ফোর্ডই বিশ্ববিখ্যাত গাড়ি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।

এই রকম হাজারও উদাহরন রয়েছে, যা আপাত ভুলে মনে হলেও পরবর্তীতে সাফল্যের অংশ হিসেবেই ভুলগুলো ইতিহাসে স্থান পেয়েছে। আমাদের নতুন প্রজন্মের সামনে এই উদাহরন গুলো আশা করি চলার পথে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

মাহফুজুল ইসলাম সাইমুম।
তারিখঃ ২১-০২-২০১৬।

Share

আরও খবর