৭ মার্চ, অনলাইন ডেস্কঃ তা হলে কি এবার কল্প-বিজ্ঞান সত্যি হতে চলছে? এই প্রথম বারের মতো শুধু স্টেম সেল ব্যবহার করে ইঁদুরের ভ্রূণ তৈরিতে সফল হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আর এই সাফল্য কৃত্রিম মানুষ জন্ম দানের ব্যাপারে আরও আশাবাদী করে তুলেছে বিজ্ঞানীদের। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন খুব শীঘ্রই কৃত্রিম উপায়ে মানুষেরও জন্ম দেয়া সম্ভব হবে।

যুক্তরাজ্যে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে এই ভ্রূণটি তৈরি করেছেন। বলা হচ্ছে, বিশ্বে এধরনের বৈজ্ঞানিক সাফল্য এটিই প্রথম। এর আগে ১৯৯৬ সালে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম ক্লোন প্রাণী ডলি নামের একটি ভেড়ার জন্ম দিয়েছিলো।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই গবেষণায় তারা ইঁদুরের দুই ধরনের স্টেম সেল ব্যবহার করেছেন। জীবন্ত এই ভ্রূণটি তৈরি হতে সময় লেগেছে মাত্র ৪ দিন। কোন ধরনের শুক্রাণু বা ডিম্বাণু ছাড়াই বিজ্ঞানীরা এই প্রথম জীবন্ত ভ্রূণ তৈরি করলেন।

এর অর্থ হলো কোন মানুষের জন্মের জন্যেও এখন আর কেবল শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর ওপর নির্ভর করতে হবে না। মানব দেহের যেকোনো কোষ থেকেই হয়তো অদূর ভবিষ্যতে মানুষ জন্ম দেয়া সম্ভব হবে।

এই গবেষণাকে জীব-প্রকৌশলের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। কারণ বিজ্ঞানীরা হয়তো কোন এক সময় এই একই উপায়ে ল্যাবরেটরিতে মানুষের ভ্রূণ তৈরি করতেও সক্ষম হবেন।

বিজ্ঞানীরা জানান, এই আবিষ্কারের ফলে মানব জীবনের একেবারে প্রাথমিক ধাপের বিষয় অনেক কিছু জানা সম্ভব হবে। তারা জানতে পারবেন কেন কোন কোন মানুষ গর্ভধারণ করতে পারে না বা করলেও শেষ পর্যন্ত সেটি ব্যর্থ হয়। তবে এরকম কোন উদ্যোগ নেয়া হলে সেটা বিতর্কের মুখে পড়তে পারে কারণ এখানে অনেক নীতি-নৈতিকতার বিষয়ও জড়িত।

কিংস কলেজের অধ্যাপক ড. ডাস্কো ইলিচ বলেছেন, এটা একটা দারুণ ঘটনা। গবেষণাগারে জীবনের প্রথম ধাপটি আবিষ্কারের অর্থ হচ্ছে বিজ্ঞানের খুবই অগ্রসর এক অর্জন।

বর্তমানে বিজ্ঞানীরা আইভিএফ চিকিৎসার সময় যেসব ভ্রূণ অব্যবহৃত থেকে যায় সেগুলো নিয়ে গবেষণা করতে পারেন। তবে এসবের সংখ্যা খুবই কম। এছাড়া ১৪ দিন পর এসব ভ্রূণ ধ্বংস করে ফেলতে হয়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, কৃত্রিম উপায়ে ল্যাবরেটরিতে বহু সংখ্যক ভ্রূণ তৈরি করতে পারার অর্থ হলো এখন এই গবেষণা আরও দ্রুত গতিতে অগ্রসর হবে। পাশাপাশি নীতি-নৈতিকতার যেসব সীমাবদ্ধতা আছে সেগুলোও হয়তা কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

উল্লেক্ষ্য, এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাগডালিনা জারনিকা-গোয়েৎস। তিনি জানান, আমরা মনে করি ১৪ দিন শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই আমরা অনেক কিছু করে ফেলতে পারবো। ইঁদুরের স্টেম সেল থেকে যেভাবে ভ্রূণ তৈরি করা হয়েছে সেই একই উপায়ে মানুষের স্টেম সেল থেকেও মানব ভ্রূণ তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা খুবই আশাবাদী যে এর ফলে আমরা হয়তো মানব ভ্রূণের বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পর্যায় সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারবো। এই বিকাশ কিভাবে ঘটে সেটা জানতে পারলে এটাও বুঝতে পারবো যে অনেক সময় এই ভ্রূণ শেষ পর্যন্ত কেনো ব্যর্থ হয়ে যায়।

Share

আরও খবর