২০ ফেব্রুয়ারি, অনলাইন ডেস্কঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের ধ্বংস ডেকে আনতে পারে, প্রমাণ মিলল গুগলের ডিপ মাইন্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রজেক্টে!

এইতো গত বছর বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে একটি সতর্কবার্তাই দিলেন। স্টিফেন হকিং এর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের জন্য হয় খুবই কল্যাণকর অথবা ভয়ংকর হুমকি- যে কোনোটিই হতে পারে।

সম্প্রতি গুগল একটি গবেষণা চালায়। তাদের এই গবেষণায় ডিপ মাইন্ড এআই প্রোগ্রামের এক প্রজেক্টে দুইটি রোবটের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিজ্ঞানীরা অবাক হয়ে যান। রোবট দুইটি তাদের গেম জিততে মরিয়া হয়ে উঠে। এই ফলাফল থেকে কিছুটা হলেও ধারণা করা যেতে পারে, পরবর্তীতে রোবট বানাতে হলে কত কিছু চিন্তা করতে হবে। এমনটাও হতে পারে নিজের বানানো রোবট-ই নিজের জন্য হুমকির কারণ।

গত বছর গুগলের এই প্রোগ্রামটি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ গো প্লেয়ারের মুখোমুখি হয়ে পাঁচটির মধ্যে চারটি গেইমই জিতে নেয়। শুধু তাই নয়, এতে যথেষ্ট বুদ্ধিবৃত্তিরও পরিচয় দেয় প্রোগ্রামটি।

গবেষক দল এখন দেখছেন ডিপমাইন্ড স্বেচ্ছায় অন্যদের সঙ্গে কিভাবে যোগাযোগ করে এবং এটি যখন বুঝবে সে হেরে যাচ্ছে তখন কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়।

গুগল টিম ৪০ মিলিয়ন বার ‘ফ্রুট গ্যাদারিং’ নামের সাধারণ একটি কম্পিউটার গেইম চালায় এবং দুটি ডিপমাইন্ডকে একে অপরের বিরুদ্ধে গেইমটি খেলতে নির্দেশ দেয়। গেইমটিতে ভার্চুয়াল আপেল সংগ্রহ করতে হয়। গেইমটি স্বাভাবিকভাবেই চলছিল যতক্ষণ পর্যন্ত যথেষ্ট আপেল ছিল সংগ্রহ করার মতো। কিন্তু যখন আপেল শেষ হয়ে আসতে থাকে তখন এই ডিপ মাইন্ড এজেন্ট দুইটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। একে অপরের দিকে লেজার বিম নিক্ষেপ করতে থাকে যেন প্রতিপক্ষ খেলা থেকে বেরিয়ে যায় এবং একাই সবগুলো আপেল সংগ্রহ করে নিতে পারে।

ভিডিওটি দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন এই ডিপ মাইন্ড এজেন্ট দুইটির আক্রমণাত্মক মনোভাব। ভিডিওতে লাল এবং নীল ডট হল ডিপ মাইন্ড এজেন্ট এবং সবুজ ডট হল আপেল। এবং হলুদ দাগ হল লেজার বিম।

মজার বিষয় হল, লেজার বিম নিক্ষেপ করলে কোনো অতিরিক্ত পয়েন্ট নেই কিন্তু কেউ যদি প্রতিপক্ষের গায়ে লেজার নিক্ষেপ করে তবে প্রতিপক্ষ কিছু সময়ের জন্য খেলা থেকে বেরিয়ে যাবে এই সুযোগে সফল এজেন্ট সব আপেল সংগ্রহ করে নিবে। এমনকি যদি তারা কোনো লেজার বিম ব্যবহার না করে তবে কিন্তু দুজনই সমান সংখ্যক আপেল সংগ্রহ করতে পারবে। যেমনটা করেছিল ডিপ মাইন্ড এর কম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবট।

গুগল টিম যত বেশি জটিলভাবে ডিপ মাইন্ডকে তৈরি করছে ততই এটার মধ্যে লোভ এবং আক্রমণাত্মক মনোভাব আসছে। গবেষকদের মতে, যত বেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা রোবটগুলোর মধ্যে সংযোজন করা হবে এটা ততই পরিবেশ থেকে শিখবে এবং আক্রমনাত্মক হয়ে উঠবে।

আরো একটি গেইম এর আয়োজন করা হয়। সেখানে ডিপ মাইন্ড এজেন্ট দুইটির পরিবর্তে তিনটি নেয়া হয়। এবং গেইমটিও পরিবর্তন করা হয়। গেইমটির নাম উলফপ্যাক। যেখানে দুইটি এজেন্ট উলফ অর্থাৎ নেকড়ে হিসেবে থাকে এবং অন্যটি শিকার হিসেবে। এখানে দুইটি নেকড়ে এক দলে থাকে। সেখানে অদ্ভুতভাবে ডিপ মাইন্ড এজেন্ট দুইটি যারা নেকড়ে হিসেবে ছিল তারা একই সঙ্গে কাজ করে এবং একে অপরকে সহযোগিতা করে। যা থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও যে সমবায়ভাবে কাজ করলে সাফল্য আসবে তার প্রমাণ দেখায়।

যদিও গবেষণাটি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। এখনো গুগল টিম তাদের পেপার প্রকাশ করেনি তবুও এটা অনুমান করা যায় যে, আমরা কোনো একটা মেশিন বা রোবট তৈরি করেছি বলে যে তারা আমাদের কথা মতো চলবে, এমনটা নাও হতে পারে। তাই এখনই সময় এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরির আগে চিন্তা করা, এটা আবার মানবজাতির জন্য হুমকির কারণ হবে না তো?

তথ্যসূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

Share

আরও খবর