১৯ নভেম্বর, স্পোর্টস ডেস্কঃ বিপিএল এর ৫ম আসরে নিজেদের অভিষেকটা স্মরণীয় করে রাখতে পারলেন না রংপুর রাইডার্সের ওয়েস্ট ইন্ডিজ তারকা ক্রিস গেইল ও নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। গেইল ১৩ বলে ১৭ ও ম্যাককালাম ১৪ বলে ১৩ রান করে আউট হন। তাদের ব্যর্থতার দিন টুর্নামেন্টের ২০তম ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে ১৪ রানে হেরে গেছে রংপুর। ৫ খেলায় চতুর্থ জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয়স্থানে উঠে এলো কুমিল্লা। আর চতুর্থ ম্যাচে তৃতীয় হারের স্বাদ নিয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে থাকলো রংপুর।

মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত নেন রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। কুমিল্লার হয়ে এ ম্যাচে টস করতে নেমেছিলেন ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। কুমিল্লার হয়ে ইনিংসের শুরুটাও ভালো করেছিলেন তামিম। ৪টি বাউন্ডারিতে ভালো কিছু করার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন তিনি। তবে ১৯ বলে ২১ রানের বেশি করতে পারেননি তামিম।

দলীয় ২৩ রানে তামিমের বিদায়ের পর ইমরুল কায়েসকে নিয়ে ইনিংস মেরামতে মনোযোগি হন আরেক ওপেনার লিটন দাস। ইমরুলের ব্যাটে চড়েই রানের চাকা ঘুরছিলো কুমিল্লার। তাকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন লিটন। এমন সময় লিটনকে থামিয়ে দেন রংপুরের দলপতি মাশরাফি। আউট হওয়ার আগে ১১ বলে ১১ রান করেন লিটন।

চার নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে ১ রানের বেশি করতে পারেননি ইংল্যান্ডের জশ বাটলার। তাই বাটলারকে হারানো ক্ষত ভোলাার মিশন শুরু করেন ইমরুল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারলন স্যামুয়েলস। চতুর্থ উইকেটে ৪৫ রানের জুটি গড়ে কুমিল্লাকে লড়াকু স্কোর গড়ার পথ তৈরি করে দেন তারা।

আগের দুই ম্যাচে ৪৪ ও ৪৫ রান করা ইমরুলও এবারও চল্লিশের ঘরে আউট হন। ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩২ বলে ৪৭ রান করেন ইমরুল। এরপর ক্রিজে আসেন কুমিল্লার হয়ে প্রথমবারের মত খেলতে নামা পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শোয়েব মালিক। রান আউট হবার আগে মাত্র ৯ রান করেন তিনি।

তবে শেষ পর্যন্ত স্যামুয়েলসের ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজানো ৩৪ বলে ৪১ রান ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের ১১ বলে অপরাজিত ১৬ রানের কল্যাণে ৬ উইকেটে ১৫৩ রান করে কুমিল্লা। মাশরাফি ও শ্রীলংকান থিসারা পেরেরা ২টি করে উইকেট নেন।

জবাবে গেইল-ম্যাককালাম ঝড় দেখার অপেক্ষায় কানায় কানায় পরিপূর্ণ স্টেডিয়াম। আর রংপুরের লক্ষ্য গেইল-ম্যাককালামের ব্যাটিং নৈপুন্যে ম্যাচ জয়ের পথ তৈরি করা। শুরুটা দেখেশুনে করলেও, দ্রুত হাত খুলে মারতে থাকেন গেইল ও ম্যাককালাম।

চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে পাকিস্তানের পেসার হাসান আলীর বল ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন গেইল। আকাশে উঠে যাওয়া সেই বল তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন কুমিল্লার উইকেটরক্ষক লিটন। জীবন পেয়ে ঐ ওভারেই পর পর তিনটি বাউন্ডারি মারেন গেইল।

তবে পরের ওভারেই আফগানিস্তানের লেগ স্পিনার রশিদ খানের বলে লেগ বিফোর ফাঁেদ পড়েন গেইল। ৩টি চারে ১৩ বলে ১৭ রান করেন তিনি। একই ওভারের তৃতীয় বলে শ্রীলংকার কুশল পেরেরাকে ফিরিয়ে কুমিল্লার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেন রশিদ। তাই পরের ওভারের প্রথম বলে আজকের ম্যাচের আরেক আর্কষণ ম্যাককালামকে বিদায় দেন ২২ বছর বয়সী অফ-স্পিনার মেহেদি হাসান। ১টি করে চার ও ছক্কায় ১৪ বলে ১৩ রান করেন ম্যাককালাম।

কিউই ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর শুন্য হাতে আউট হন বাঁ-হাতি শাহরিয়ার নাফীসও। এতে ৩২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে রংপুর। এমন অবস্থায় ৫৯ বলে ৬৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন মোহাম্মদ মিথুন ও ইংল্যান্ডের রবি বোপারা। ২৬ বলে ৩১ রান করে মিথুন ফিরলে, বোপারাসহ পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা আস্কিং রেটের সাথে পাল্লঅ দিয়ে আর কক্ষে ফিরতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ১৩৯ রানে থেমে যায় করতে রংপুরের ইনিংস।

বোপারা ৪৮ বলে অপরাজিত ৪৮ রান করেন। কুমিল্লার মেহেদি ও রশিদ ২টি করে উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: ১৫৩/৬, ২০ ওভার (ইমরুল ৪৭, স্যামুয়েলস ৪১, মাশরাফি ২/২২)।
রংপুর রাইডার্স : ১৩৯/৭, ২০ ওভার (বোপারা ৪৮*, মিথুন ৩১, মেহেদি ২/১৫)।
ফল : কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ১৪ রানে জয়ী।

Share

আরও খবর