বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের উপর মেহেপুরে নির্মিত একটি ভাস্কর্য

১৩ ডিসেম্বর, নিজস্ব প্রতিবেদনঃ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিজয় তখন চূড়ান্ত, একে একে বিভিন্ন জেলা থেকে আসছিল বিজয়ের খবর, ঠিক সেই সময় পরাজয় নিশ্চিত জেনে নতুন জাতি যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে তারই ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় সহযোগীরা। শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ দেশের মেধাবী সন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

বলা হয়ে থাকে, হিটলারের গ্যাস চেম্বারের গণহত্যার চেয়েও ভয়ংকর ছিল বর্বর পাকিস্তানীদের হাতে সংগঠিত বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড। কারণ, এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে শুধু কয়েকটি প্রাণ নেওয়া হয়নি, পঙ্গু করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল পুরো একটি জাতিকে। ইতিহাসবিদদের মতে, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ছিল পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্তিম আঘাত। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতা অর্জনের পর গত ৪৬ বছরেও জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের তালিকা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। ফলে বাঙালি আজও জানতে পারলো না, জাতির কতজন শ্রেষ্ঠ সন্তানকে নোংরা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করেছে পাকিস্তানীরা।

দেশে এখনো একাত্তরে নিহত বুদ্ধিজীবীদের তিন ধরনের তালিকা প্রচলিত রয়েছে। সরকার স্বীকৃত কোনো তালিকা না থাকায় এসব তালিকার কোনোটাকেই নির্ভরযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয় না।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা কেন্দ্রিক কিছু শহীদ বুদ্ধিজীবীর প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছে মন্ত্রণালয়। কিন্তু সারা দেশে নিহত বৃদ্ধিজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ কোনো তালিকা তৈরি সম্পন্ন করা হয়নি। তবে পূর্ণাঙ্গ একটি তালিকা তৈরির লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি : সদ্য স্বাধীন হওয়া যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পক্ষে ৩০ লাখ শহীদের মধ্যে বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা কত তা নির্ণয় করা সম্ভব ছিল না। কিন্তু এত বছরেও এ সংখ্যা নিরূপণ করে ফেলা কেন হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন অনেকের। জাতীয় পর্যায়ে ১৯৭২ সালে প্রকাশিত বুদ্ধিজীবী দিবসের সঙ্কলনে আন্তর্জাতিক নিউজ ম্যাগাজিন নিউজ উইকে প্রকাশিত টমালিনের লেখায় উল্লেখ ছিল, শুধু ১৪ ডিসেম্বর ঢাকায় শহীদ হওয়া বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা মোট এক হাজার ৭০।

‘বাংলাপিডিয়া’র প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী শিক্ষাবিদ ৯৯১ জন, চিকিৎক ৪৯ জন, ৪২ জন আইনজীবী, ১৩ জন সাংবাদিক, ৯ জন সাহিত্যিক ও শিল্পী, ৫ জন প্রকৌশলী এবং অন্যান্য ২ জন। সব মিলিয়ে এই তালিকায় নিহত বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা এক হাজার একশ’ ১১ জন।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ১৫২ জনের নামে স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করে সরকার। মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ অভিভাবক প্রতিষ্ঠান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় বর্তমানে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা চাইলে ১৫২ জনের সেই তালিকাটিই সরবরাহ করে।

১৯৮৪ সালে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সম্পর্কে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত লেখা নিয়ে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মারক গ্রন্থ’ প্রকাশ করে বাংলা একাডেমী। ১৯৮৫ সালে বাংলা একাডেমী শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষ গ্রন্থ’ প্রকাশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নাম সংগ্রহের জন্য তখন বাংলা একাডেমী সব জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিল। সে সময় বাংলা একাডেমী নিজেরাই ঠিক করে যে শিক্ষক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী, শিল্পী, চলচ্চিত্রকার, প্রকাশকসহ বিশেষ কিছু পেশাজীবীকে ‘বুদ্ধিজীবী’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সেই নীতিমালা অনুযায়ী ১৯৮৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর ২৫০ জনের তালিকা নিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষ গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়। যে ২৫০ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর নাম সংগ্রহ করা হয় তাদের অনেকেরই আবাসিক ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে বেশকিছু শহীদ বুদ্ধিজীবীর বিস্তারিত তথ্য যোগাড় করা সম্ভব হয়নি। কোষ গ্রন্থের নাম-ঠিকানা ধরে খোঁজ-খবর নিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের বেশ কয়েকজনের নিকটাত্মীয়ের লেখা সংকলিত করে ১৯৮৮ সালে বাংলা একাডেমী প্রকাশ করে ‘স্মৃতি-৭১’ গ্রন্থ।

‘স্মৃতি-৭১’ গ্রন্থ প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক সাড়া জাগায় এবং কোষ গ্রন্থে প্রকাশিত তালিকার বাইরে অনেক শহীদ বুদ্ধিজীবীর আত্মীয়-স্বজন তাদের তথ্য নিয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে বাংলা একাডেমীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ পর্যায়ে এসে কোষ গ্রন্থের তালিকাসহ মোট প্রায় ৩২৫ জনের মতো শহীদ বুদ্ধিজীবীর নাম বাংলা একাডেমির হাতে আসে। পরে একের পর এক ‘স্মৃতি-৭১’ প্রকাশিত হতে থাকে। এ গ্রন্থের ১০ম খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৯৯৭ সালের ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ১০ম খণ্ডে স্থান পেয়েছে ১২ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর নিকটাত্মীয়ের স্মৃতিকথা। ১০ম খণ্ড পর্যন্ত বাংলা একাডেমী ২৩৮ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর আত্মীয়-বন্ধুবান্ধবের লেখা স্মৃতিকথা প্রকাশ করে। এর বাইরে বাংলা একাডেমী আর কোনো তালিকা সংগ্রহ বা প্রকাশ করতে পারেনি। সরকার কয়েক দফা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা তৈরি করার চেষ্টা করে কিন্তু সম্পন্ন করতে পারেনি এই মহতী কাজটি।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘জেলা পর্যায় থেকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন নিহত শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা সংগ্রহের কাজ চলছে।’

তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের জুলাইয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকার গেজেট প্রকাশ করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করেছি কিন্তু এখনো কাজটি সম্পন্ন করা যায়নি। তবে আশা করছি, শিগগিরই সর্বজনস্বীকৃত একটি তালিকা প্রকাশ করা হবে।’

বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড নিয়ে কিছু অজানা তথ্য : বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের মূল পরিকল্পনাকারী পাকিস্তানি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। স্বাধীনতার পর বঙ্গভবনে রাও ফরমান আলীর একটি ডায়েরি পাওয়া যায়। ওই ডায়েরিতে নিহত ও জীবিত বুদ্ধিজীবীদের তালিকা পাওয়া যায়। ডায়েরিতে উল্লেখ ছিল, ‘আলবদর বাহিনী বুদ্ধিজীবীদের তালিকা তৈরি করে। এই বদর বাহিনীর সদস্যরা হত্যার উদ্দেশ্যে বুদ্ধিজীবীদের ধরে এনে তাঁদের নির্মমভাবে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করে’।

স্বাধীনতার পর ‘বুদ্ধিজীবী নিধন তদন্ত কমিশন’ গঠিত হয়। ওই কমিশনের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া যায়, পাকিস্তানি মেজর রাও ফরমান আলী শুধু ডিসেম্বরেই ২০ হাজার বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। ঘাতকদের নেতৃত্বে ছিলেন চৌধুরী মঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খান। মঈনুদ্দীন বুদ্ধিজীবীদের তালিকা করে তাঁদের হত্যা কার্যকর করার পরিকল্পনা করেন। আশরাফুজ্জামান বুদ্দিজীবীদের মৃত্যু কার্যকর করেন।

স্বাধীনতার পর আশরাফুজ্জামানের নাখালপাড়ার বাসা থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার করা হয়। ওই ডায়েরিতে যেসব বুদ্ধিজীবীর নাম-ঠিকানা পাওয়া যায় তাঁদের সবাইকে ১৪ ডিসেম্বর হত্যা করা হয়। রায়েরবাজার ও মিরপুরের শিয়ালবাড়ী বধ্যভূমিতে বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবীকে নিজ হাতে আশরাফুজ্জামান হত্যা করেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়।

বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে প্রথম ফাঁসি কার্যকর : পুরো বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছিল সেই সময়ের বর্বরতা, নৃশংসতা। প্রত্যক্ষ করেছিল, কিভাবে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ ফেলে দেওয়া হয়। স্বাধীনতার পর ৪৫ বছর ধরে এই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছিল বাংলাদেশ।

১৯৭২ সালের প্রশাসনিক বিভাগ ও জেলা অনুযায়ী নির্মিত এই তালিকা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য

পাকিস্তানি দোসররা এত দিন স্বীকারই করেনি এ দেশে যুদ্ধাপরাধের মতো ঘটনা, মানবতাবিরোধী ঘটনা ঘটেছিল। এ দেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই বলেও দাম্ভিকতা দেখিয়েছিল কেউ কেউ। কিন্তু সব দম্ভ চূর্ণ করে দিয়ে ২০১৫ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যার নকশাকারদের বিচার হয়। বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে প্রথম ফাঁসি কার্যকর হয় তৎকালীন আলবদর বাহিনীর প্রধান আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের।

বাঙালি জাতির মানসগঠনকে পুষ্ট করেছেন তারাই : ৭১-এর শহীদদের কাছে জাতির ঋণ শোধ হওয়ার নয়। শহীদ বুদ্ধিজীবীরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। বাঙালি জাতির মানসগঠনকে তারা পুষ্ট করেছেন। তারা জাতীয় জাগরণ স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তিভূমি নির্মাণ করেছেন। শিক্ষা, সাহিত্য ও সংগীত, চিত্রকলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা বাঙালির রেনেসাঁর পর্বটি সম্পন্ন করেছেন।

তারা গণতন্ত্র, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও শোষণমুক্ত স্বদেশের যে ছবি এঁকেছেন তা-ই পথ দেখিয়েছে আমাদের। সেই আদর্শে প্রাণ দিয়েছেন লক্ষ লক্ষ শহীদ। জয়যুক্ত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম।

নির্মম সেই হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশে পালিত হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বুদ্ধিজীবী হত্যার স্মরণে বাংলাদেশের ঢাকায় বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ডাকবিভাগ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে একটি স্মারক ডাকটিকিটের সিরিজ বের করেছে।

আর একটি দিন পরেই জাতি শোক, শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে হারিয়ে যাওয়া সেই শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তানদের স্মরণ করবে। দিবসটি উপলক্ষ্যে এরই মধ্যে জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের বর্তমানে সবচেয়ে বেশি স্বীকৃত যে তালিকা : শুধু ১৪ ডিসেম্বর নয়, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেশ কয়েকজন স্বনামধন্য বুদ্ধিজীবী পাকবাহিনীর হাতে প্রাণ হারান। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক:
ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব (দর্শনশাস্ত্র)।
ড. মুনির চৌধুরী (বাংলা সাহিত্য)।
ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী (বাংলা সাহিত্য)।
ড. আনোয়ার পাশা (বাংলা সাহিত্য)।
ড. আবুল খায়ের (ইতিহাস)।
ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা (ইংরেজি সাহিত্য)।
ড. সিরাজুল হক খান (শিক্ষা)।
ড. এ এন এম ফাইজুল মাহী (শিক্ষা)।
হুমায়ূন কবীর (ইংরেজি সাহিত্য)।
রাশিদুল হাসান (ইংরেজি সাহিত্য)।
সাজিদুল হাসান (পদার্থবিদ্যা)।
ফজলুর রহমান খান (মৃত্তিকা বিজ্ঞান)।
এন এম মনিরুজ্জামান (পরিসংখ্যান)।
এ মুকতাদির (ভূ-বিদ্যা)।
শরাফত আলী (গণিত)।
এ আর কে খাদেম (পদার্থবিদ্যা)।
অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য (ফলিত পদার্থবিদ্যা)।
এম এ সাদেক (শিক্ষা)।
এম সাদত আলী (শিক্ষা)।
সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য (ইতিহাস)।
গিয়াসউদ্দিন আহমদ (ইতিহাস)।
রাশীদুল হাসান (ইংরেজি)।
এম মর্তুজা (চিকিৎসক)।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকঃ
ড. হবিবুর রহমান (গণিত বিভাগ)।
ড. শ্রী সুখারঞ্জন সমাদ্দার (সংস্কৃত)।
মীর আবদুল কাইউম (মনোবিজ্ঞান)।

চিকিৎসকঃ
অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি (হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ)।
অধ্যাপক ডা. আলিম চৌধুরী (চক্ষু বিশেষজ্ঞ)।
অধ্যাপক ডা. শামসুদ্দীন আহমেদ।
অধ্যাপক ডা. আব্দুল আলিম চৌধুরী
ডা. হুমায়ুন কবীর।
ডা. আজহারুল হক।
ডা. সোলায়মান খান।
ডা. আয়েশা বদেরা চৌধুরী।
ডা. কসির উদ্দিন তালুকদার।
ডা. মনসুর আলী।
ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা।
ডা. মফিজউদ্দীন খান।
ডা. জাহাঙ্গীর।
ডা. নুরুল ইমাম।
ডা. এস কে লালা।
ডা. হেমচন্দ্র বসাক।
ডা. ওবায়দুল হক।
ডা. আসাদুল হক।
ডা. মোসাব্বের আহমেদ।
ডা. আজহারুল হক (সহকারী সার্জন)
ডা. মোহাম্মদ শফী (দন্ত চিকিৎসক)

অন্যান্যঃ
শহীদুল্লাহ কায়সার (সাংবাদিক)।
নিজামুদ্দীন আহমেদ (সাংবাদিক)।
সেলিনা পারভীন (সাংবাদিক)
সিরাজুদ্দীন হোসেন (সাংবাদিক)।
আ ন ম গোলাম মোস্তফা (সাংবাদিক)।
আলতাফ মাহমুদ (গীতিকার ও সুরকার)।
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত (রাজনীতিবিদ)।
রণদাপ্রসাদ সাহা (সমাজসেবক এবং দানবীর)।
যোগেশ চন্দ্র ঘোষ (শিক্ষাবিদ, আয়ূর্বেদিক চিকিৎসক)।
জহির রায়হান (লেখক, চলচ্চিত্রকার)।
মেহেরুন্নেসা (কবি)।
ড. আবুল কালাম আজাদ (শিক্ষাবিদ, গণিতজ্ঞ)।
নজমুল হক সরকার (আইনজীবী)।
নূতন চন্দ্র সিংহ (সমাজসেবক, আয়ূর্বেদিক চিকিৎসক)।

শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর কন্যা ডা. নুজহাত চৌধুরী বলেন, ‘বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ হয়েছে। অনেকের দণ্ড কার্যকর হতেও আমরা দেখেছি। তবে এখনও অনেকেই বাকি আছে।’

তিনি বলেন, ‘আলবদর বাহিনীর অপারেশন ইনচার্জ যেমন- চৌধুরী মঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামানকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে বিদেশে পলাতক থাকায় তাদের দণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। ঢাকা শহরে আমাদের বাবাদের খুঁজে খুঁজে তুলে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে এই দুই কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী দায়ী। এদের দেশে এনে সাজা কার্যকর করতে পারলে যুদ্ধাপরাধের বিচারে বড় সাফল্য হবে।’

Share

আরও খবর