জার্মানদের ঐতিহাসিক ভিক্টোরি প্যারেড১৬ জুলাই, স্পোর্টস ডেস্কঃ জার্মানির ইতিহাস, ঐতিহ্য আর কৃষ্টির কথা বলে ব্রান্ডেনবার্গ গেট। বলে ইউরোপের একতা ও শান্তির কথা। বার্লিনের সেই ঐতিহাসিক ব্রান্ডেনবার্গ গেটেই পালিত হল একীভূত জার্মানির বিশ্বকাপ শিরোপার জয়োৎসব। ওখানেই আনন্দমুখর লাখো লাখো মানুষ কাল বরণ করে নিল তাদের বীর ফুটবলারদের। তাদের নতুন হিরোদের। ২৪ বছর পর যারা ঘরে ফিরিয়ে এনেছে বিশ্ব শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট, চ্যাম্পিয়নের ট্রফি। ১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ সালের পর এবার আবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। বিজয়ীদের দেয়া হল ভিক্টোরি প্যারেড।

চ্যাম্পিয়নরা আসবেন। তাদের বরণ করে নিতে হবে যোগ্য সম্মান দিয়ে। বার্লিনে সাজসাজ রব। বার্লিনের দেয়াল ভেঙেছে ১৯৯০ সালে। ওই বছরই পশ্চিম জার্মানি শেষবার জিতেছে বিশ্বকাপ শিরোপা। তখনকার পূর্ব জার্মানদের যে শিরোপা জয়ের স্বাদ নেয়ার অভিজ্ঞতা ছিল না মোটে। আজ উপভোগের সেই স্বাদটাই তারা নিলেন আনন্দে নেচে-গেয়ে, বীর ফুটবলারদের সম্মান জানিয়ে। জাতীয় রঙে রাঙা হয়ে, জাতীয় দলের পোশাকে, জাতীয় পতাকা উড়িয়ে।

ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো থেকেই বিশ্বজয় হয়েছে জার্মানদের। চতুর্থবারের মতো। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রোববারের ফাইনালে জার্মান মেসি মারিও গোটশের অতিরিক্ত সময়ের গোল এনে দিয়েছে উৎসব। ফুটবলের সর্বোচ্চ সম্মান নিয়ে এই ফেরা। বার্লিনের মিষ্টি সকালে বিমান এসে নামে টেজেল বিমানবন্দরে। বিমান নামছে টারমাকে, একপাশে লেখা ‘বিজয়ী প্লেন’। উপস্থিত হাজারো মানুষের উৎসবমুখর চিৎকারে আকাশ-বাতাস মুখরিত। সবার আগে অধিনায়ক ফিলিপ লাম। হাতে বিশ্ব শিরোপা। এরপর জাতীয় পতাকা শরীরের বাস্তিয়ান শোয়েন্সটেইগার। একে একে দলের সবাই।

এই প্রজন্মের গড় বয়স ২৫। আগেরবার জার্মানিতে এমন বিশ্বকাপজয়ী দল ফিরেছিল ২৪ বছর আগে। এই দলটির তাই সেবারের দলকে কিভাবে বরণ করে নেয়া হয়েছিল, সেই স্মৃতি নেই। থাকলে তুলনাটা করতে পারতেন। বুঝতে পারতেন দেশটা যেন তাদের জন্যই নিবেদিত আজ। বিমানবন্দর থেকে হোটেল র‌্যাডিসন। একটু বিশ্রাম। পথে মানুষ আর মানুষ। বিজয়ীদের ভিক্টোরি প্যারেড হওয়ার আগে ফ্যানদের দেয়া বাড়তি সম্মান। পথের দু’পাশে বিজয়ীর বেশে ফুটবলপাগল মানুষ। সবাই সব কাজ, সব ব্যস্ততা পাশে সরিয়ে রেখে শুধু ফুটবলারদের জন্যই উপস্থিত।
ফুটবলারদের বিশ্বজয় ঐতিহাসিক। ফিরে আসা ঐতিহাসিক। বরণ করে নেয়াও। এই যে হোটেল থেকে কালো একটা ছাদ খোলা বাসে বেরিয়ে আসছেন বীররা, এও তো ঐতিহাসিক। ইতিহাসের সাক্ষী প্রত্যেকটি মানুষ। এই বাসের ড্রাইভার ৩৪ বছরের বার্নড হেসেও তাই বলেন, ‘এ তো ঐতিহাসিক আয়োজন। রোজ রোজ তো আর এমন হয় না।’

বিজয়ীদের বাস এগিয়ে চলে। গোটশে, লাম, ক্রুস, মুলার, নুয়াররা ছাদে আনন্দ করেন। জবাব দেন ভক্ত-সমর্থকদের সম্মাননার। মানুষের পথ ব্রান্ডেনবার্গ গেটে। দু’পাশে মানুষ আর মানুষ। কত মানুষ? ২ লাখ? হয়তো ভাবেন জার্মান খেলোয়াড়রা। ভাবেন হামেলস, ক্রুমার, খেদিরা, ওজিলরা। নাহ। আরও বেশি, ৫ লাখের কম তো নয়ই। এভাবে যত এগিয়ে যান তারা উৎসবের মাঝ থেকে মানুষের সংখ্যা আরও বেশি মনে হয়। জাতীয় এই উৎসবে দেশের কত জায়গা থেকে যে মানুষ এসেছে! ঠিক যেমন এসেছিল ২৪ বছর আগে। সেবার এসেছিল বার্লিনের দেয়াল ভাঙার উৎসবে। দুটি জার্মানিকে এক করতে। এবার নিজেদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উৎসব করতে। দুই জার্মানি এক হয়ে।

Share

আরও খবর