বাংলাদেশ দ্রুত মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হতে চলেছে। এটি অত্যন্ত ভাল দিক। এই খুশিতে আহ্লাদে আমরাও আটখানা। আমাদের মাননীয় অর্থমন্ত্রী মহোদয় অত্যন্ত সফলতার সাথে ২০১৭-১৮ সালের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার মেগা বাজেট ঘোষণা করলেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি সর্ববৃহৎ বাজেট , এই বাজেট দেখে আমরাও আনন্দে আপ্লুত।

বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তিখাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৫৪৫০ কোটি টাকা যা গতবারের চেয়ে ১৫১৫৮ কোটি টাকা বেশি। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের বরাদ্দ মূল বাজেটের ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ।

সব মিলিয়ে শিক্ষাখাতের বরাদ্দ দেখে আশাবাদী হবার যথেষ্ট কারণ এবং সুযোগ রয়েছে এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সরকারের ভিশন ২০২১ অর্জন অত্যন্ত জরুরি একটি উদ্যোগ।

কিন্তু, শিক্ষা ও শিক্ষকদের বাদ দিয়ে ভিশন-২০২১ অর্জন কি সম্ভব? শিক্ষকদের অবমূল্যায়ন করে বা কোন রকমে জোড়াতালি দিয়ে শিক্ষাখাতকে চালিয়ে নিয়ে উন্নতি আশা করা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।

শিক্ষাক্ষেত্রে হাজারো সমস্যা। মানছি এগুলো সব এক দুই বছরে সমাধান হয়ে যাবে না। কিছু সমাধানযোগ্য কিছু সমস্যা অহেতুক ঝুলিয়ে রেখে কার কী লাভ হবে জানি না , তবে শিক্ষাখাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাতে আমি নিশ্চিত।

দেশের প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী পড়াশুনা করে বেসরকারি এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। সেই বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন ভাতায় রয়েছে আকাশচুম্বী বৈষম্য। যেমন- সরকার এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের ঈদ বোনাস প্রদান করে স্কেলের ২৫%। প্রিয় পাঠক, বিবেচনা করুন, বেসরকারি শিক্ষকগণ কি ২৫% ঈদ করবে? অথবা, তাদের জন্য বাজারে দ্রব্যমূল্য কি ২৫% হবে?

অন্যদিকে সরকার নববর্ষ উদযাপনে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে তাদের স্কেলের ২৫% বৈশাখী ভাতা প্রদান করে থাকে । এমপিওভূক্ত শিক্ষকদেরকে এর বাইরে রাখা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষকগনকে বৈশাখী ভাতা প্রদান করা হয়নি কিন্তু সরকারি এই ছুটির দিনে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নববর্ষ উদযাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাংলা নববর্ষে ছুটির দিনে প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করবে শিক্ষকগন আর ভাতা পাবেন অন্যরা। কী চমৎকার ব্যবস্থা।

ঠিক ঈদের বেলায়ও একই রকম বৈষম্য। বাংলাদেশ এগিয়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলের স্বপ্ন থেকে বাস্তবায়ন দেখছে। জিম্বাবুয়ের সাথে হারতে থাকা বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেটে তার সম্মানজনক জায়গা করে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে উঠেছে। সর্বক্ষেত্রেই পরিবর্তন হয়েছে। উন্নতি বা প্রগতির ছোঁয়া লেগেছে। লাগেনি শুধু শিক্ষকদের জীবন যাপনে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শিতায় অনেক বড় বড় সমস্যা সমাধান হয়েছে। শিক্ষকদের কে ২৫% ঈদের হাত থেকে বাঁচাতে হলে তাঁর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। একটি স্বাধীন দেশে এই রকম বৈষম্য বর্বরতার সামিল।

প্রভাষক মাহফুজুল ইসলাম সাইমুম।
এক্সিকিউটিভ এডিটর
দি টাইমস ইনফো ডট কম
তারিখঃ ১১-০৬-২০১৭।

Share

আরও খবর