রুমন হায়াৎরুমন হায়াৎ। সঙ্গীতের মাঝে যার বেড়ে ওঠা আর সঙ্গীত নিয়ে যার কেটে যায় সময়। সম্প্রতি প্রকাশিত নিজেদের মেটাল ব্যান্ড ব্লাডোরিয়ার মাধ্যমে সম্মান জানালেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু বিদেশী বন্ধুদের। যাদের অসীম সাহসিকতা ও ভালবাসায় গতি পায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। শুধু তাই নয়- স্বাধীনতা পরবর্তীতেও যারা করে চলছে প্রতিমুহূর্তে আমাদের সহায়তা। সেই “কনসার্ট ফর বাংলাদেশ” এর শিল্পীদের শ্রদ্ধা জানিয়ে এ্যালবাম “ট্রিবিউট টু কনসার্ট ফর বাংলাদেশ” প্রকাশ করলেন তারা। অনেক ব্যস্ততার মধ্যেও আড্ডা দিলেন টাইমস টু হ্যালো’র সাথে, বললেন তাঁর গান নিয়ে চিন্তা ও প্রত্যাশার কথা।

দি টাইমস ইনফোঃ কেমন আছেন ?
রুমন হায়াৎঃ ভাল আছি।

দি টাইমস ইনফোঃ যদি একটু বলতেন- ব্লাডোরিয়ার শুরু কি ভাবে?
রুমন হায়াৎঃ ১৯৯৯ সালে আমরা ৬ জন মিলে ব্লাডোরিয়া ফর্ম করি। প্রথমেই আমরা তিন জন ছিলাম সোহেল, অমিত আর আমি। এরপর অমিত দেশের বাহিরে চলে গেলে আমরা ৪ জন আমি, সঞ্জয়, সোহেল আর রেদোয়ান মিলে শুরু করি ব্লাডোরিয়া । আর আমাদের বাল্যবন্ধু সুমন আমাদের ব্যান্ড মেম্বার কাম ম্যানেজার হিসেবে ছিল।

দি টাইমস ইনফোঃ ব্লাডোরিয়ার প্রথম এ্যালবাম কোনটি?
রুমন হায়াৎঃ ২০০৪ সালে ব্লাডোরিয়া প্রথম একটি মিস্কড এ্যালবামে অংশ নেয়। এ্যালবামটির নাম “দিন বদল”। “দিন বদল”-এ “তার পরেও বাংলাদেশ” নামে আমাদের একটি গান ছিল। বাংলাদেশের তৎকালীন প্রথম সারির মেটাল ব্যান্ডদের নিয়ে এই এ্যালবাম টি।

দি টাইমস ইনফোঃ ব্লাডোরিয়ার প্রথম কবে স্টেজ পারফরম?
রুমন হায়াৎঃ ২০০৪ সালেই বাজ এন্টারটেইনমেন্ট ও পেপসির আয়োজনে বাংলাদেশে প্রথম মেটাল ফেস্ট হয়। ঐ সময় বাংলাদেশে সব মিলিয়ে ১১ টি মেটাল ব্যান্ড ছিল। যার মধ্যে আরটসেল, অর্থহীন ও ব্ল্যাক অন্যতম। আমাদের প্রথম শো ছিল সেটি। এর পর আরও কয়েকটি স্টেজ পারফরম আমরা করি, সাথে টেলিভিশন শো-ও করি। কিন্তু আমাদের ব্যান্ড মেম্বারদের দেশ ছাড়ার কারনে পরবর্তীতে তা আর হয়ে উঠেনি।

দি টাইমস ইনফোঃ ব্লাডোরিয়ার বর্তমান লাইন আপ?
রুমন হায়াৎঃ ব্যান্ড মেম্বারদের দেশ ছাড়ার পর অনেক বড় একটা সময় চলে যায়। এরপর ব্লাডোরিয়াকে একটি প্রোজেক্ট ব্যান্ড হিসেবে আবার শুরু করি। বর্তমানে আমি গিটার ও ভোকালে, আশরাফ হোসেন শাওন গিটারে, তানিন ড্রামসে আর সাওয়াল বেস গিটারে।

দি টাইমস ইনফোঃ সর্বশেষ এ্যালবাম “ট্রিবিউট টু কনসার্ট ফর বাংলাদেশ” এর মিউজিক কম্পোজিশন সম্পর্কে —?
রুমন হায়াৎঃ আমাদের সর্বশেষ এ্যালবামটি একটি স্টুডিও এ্যালবাম। এখানে আমাদের নিজেদের কোন গান নেই। আর গানগুলো সব ট্রিবিউট করেছি। গানগুলো সংগ্রহ করেছি ১৯৭১ সনের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বের সমর্থন আদায়ে “কনসার্ট ফর বাংলাদেশ” থেকে আর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে। এখানে আমরা চেষ্টা করেছি পুরানো কম্পোজিশন এর সাথে আমাদের নিজেস্ব আঙ্গিকে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করতে। আসলে গানগুলোর এরেজমেন্ট আমাদের মত করে আর টিউনগুলো তো আগে থেকেই করা।

দি টাইমস ইনফোঃ এ্যালবামটি- তে কেমন সাড়া পেলেন?
রুমন হায়াৎঃ দেশ ও দেশের বাইরে থেকে ভালই সাড়া পেয়েছি। বাংলাদেশের প্রথম সাড়ির মিউজিসিয়ানরাও ব্যাপক সধুবাদ দিয়েছে। তবে এই মহৎ কাজে দেশের চেয়ে বিদেশেই বেশী সাড়া পেয়েছি। যা আমাদের দুঃখ দিয়েছে। অনলাইনে সাড়াটা বেশি পেয়েছি।

দি টাইমস ইনফোঃ কাজটি সম্পর্কে আপানার মতামত?
রুমন হায়াৎঃ এই কাজটি করে ব্যক্তিগত ভাবে আমি সন্তুষ্ট। এবং কিছুটা দায়বদ্ধতা থেকে এই এ্যালবাম-টি করা। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালে “কনসার্ট ফর বাংলাদেশ”-এ অংশ নেওয়া শিল্পীদের প্রতি সম্মান জানাতেই এই অ্যালবামটি। তৎকালীন সময়ের সেরা ১০ শিল্পী (টপ চার্ট -১০) এই কনসার্টে উপস্থিত ছিলেন। রবি শংকর,জর্জ হ্যারিসন,রিঙ্গো স্টারস,বব ডিলান, বিলি প্যাটারসন,এরিক ক্লাপটন,ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ-সহ বিশ্ববিখ্যাত রক ও ধ্রুপদী ধারার শিল্পীরা সুরের মূর্ছনা সৃষ্টি করে মার্কিন মূলুকে।

রবি শংকরের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কনসার্ট ফর বাংলাদেশ আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন জর্জ হ্যারিসন, যা থেকে অর্জিত অর্থ বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করতে ইউনিসেফের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে ব্যয় করা হয়। কনসার্টে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের জমায়েত হয় তৎকালীন জাতিসংঘের চোখ রাঙ্গানী উপেক্ষা করে।

পরবর্তীতে কনসার্টের ভিডিও তৈরী করে জাতিসংঘে “হ্যারিসন ফান্ড” তৈরী করে ভিডিও বিক্রির অর্থও মুক্তিযুদ্ধে ব্যয় করা হয়।

এছাড়া এই ফান্ডের অর্থ মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীতে বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষে সাহায্য সহায়তা হিসেবে ব্যয় করা হয়। এছাড়া এই ফান্ডের অর্থ এখনো বাংলাদেশ ও আফ্রিকার পথ শিশুদের জন্য ব্যায় করা হচ্ছে। এছাড়াও সিডোরের পরবর্তী সময়ে জর্জ হ্যারিসন-এর স্ত্রী সিডোর আক্রান্ত এলাকায়ও জাতিসংঘে “হ্যারিসন ফান্ড”-এর মাধ্যমে আবারও সাহায্য সহায়তা পাঠান।

আমার মনে হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী এমন বন্ধুদের উপযুক্ত সম্মান দিতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আর তাই তাদের কথা নতুন প্রজন্মকে জানানোর জন্য আমাদের এই প্রয়াশ।

দি টাইমস ইনফোঃ “ট্রিবিউট টু কনসার্ট ফর বাংলাদেশ” এই এ্যালবামটির তৈরীর পর সেই সব বিদেশী মহান শিল্পীদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে কি? হলেও বা তাঁদের পক্ষ থেকে কেমন সাড়া পেয়েছেন?
রুমন হায়াৎঃ এ্যালবাম প্রকাশের আগে ও পরে আমরা তাদের সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাদের এই প্রয়াশকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং খুশি হয়েছেন জেনে যে, আমরা নতুন প্রজন্ম তাদের এই ত্যাগ সম্পর্কে অবগত ও তাদের ট্রিবিউট করে আমরা এ কাজটি করছি। এছাড়াও অবাক করা বিষয়- সেই কনসার্টের অনেক শ্রোতাও আমাদের কাজ কে স্বাগত জানিয়েছেন।

দি টাইমস ইনফোঃ আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
রুমন হায়াৎঃ আসলে “ট্রিবিউট টু কনসার্ট ফর বাংলাদেশ” এটা আমাদের একটি ভলান্টারি কাজ। আমরা এখন আমাদের নিজস্ব এ্যালবাম নিয়ে কাজ করছি। আর আপাতত আমাদের “ট্রিবিউট টু কনসার্ট ফর বাংলাদেশ” এর গানগুলো লাইভ শো করার পরিকল্পনা আছে।

দি টাইমস ইনফোঃ আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। দি টাইমস ইনফোকে সময় দেওয়ার জন্য। ভাল থাকবেন।
রুমন হায়াৎঃ আপনাদেরও ধন্যবাদ।

Share

আরও খবর