বুদ্ধিজীবী1এই দেশে বর্তমানে সৎ রাজনীতি নাই ইহা নিশ্চিত করিয়া বলাটা মুশকিল। আর আছে বলিলে তাহার প্রমান দেওয়া অনেকটাই এভারেস্ট জয়ের সামিল। তাই আমার এই শীর্ণকায় দেহ লইয়া জটিল এসাইনমেন্ট হাতে না লওয়াই ভাল। সৎ রাজনীতিবিদ আছে কি নাই তাহার সিদ্ধান্ত পাঠকগন নিজ অভিজ্ঞতায় বিবেচনা করিবেন। আমার মত হইল- থাকিলেও থাকিতে পারে! তবে অনেকদিন জাদুঘরে যাই নাই; নিকট ভবিষ্যতে গেলে খুঁজিয়া দেখিব।

রাজনীতিবিদ সৎ বা অসৎ যাই হোন তাহাকে কিন্তু অনেক ঝুঁকি লইয়া কাজ করিতে হয়। তাহদের সাথে দলের কর্মীদের রাখিতে হয়। অবৈধ উপায়ে যে আয় হইয়া থাকে তাহার একটা বড় অংশই নেতাকর্মী বা রাজনীতিতেই ব্যয় করিতে হয়। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করিতে সব সময় ব্যস্ত থাকিতে হয়। দলের ভিতরে কিংবা বাহিরে ষড়যন্ত্র হইতে কতক্ষন? তাই সর্বদা সজাগ থাকিতে হয়।

বুদ্ধিজীবীদের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো অনেক সহজ। তাহাদের পুঁজি একটাই। পেশাগত জীবনে ছলচাতুরির সহিত নিজের খানিক মেধার সংমিশ্রণ। (ব্যতিক্রম অল্পকিছু মানুষ আছেন যাহারা এখনও সর্বজন শ্রদ্ধেয়, তাঁহাদেরকে আমরা এই আলোচনারর বাহিরে রাখিলাম)।

এই উঁচু পর্যায়ের কিছু তথাকথিত সাংবাদিক, কিছু অবসরপ্রাপ্ত আমলা (কাজের অভাবে আকামলা), কিছু শিক্ষক নামের কামলা (এদেরকে রাজনৈতিক দল যখন যে কাম বা এসাইনমেন্ট দেয় তাহা অনুসারে বক্তব্য রাখেন বা কলাম লিখেন)।

এই তথাকথিত বুদ্ধিজীবীগন তাহাদের কথনি বা লেখনী দিয়া লক্ষ্যভেদ করিতে পারিলে কোন সংস্থা বা কমিশনের সদস্য, চেয়ারম্যান বা পরিচালক, মহাপরিচালক হওয়া নিশ্চিত। কখনো কখনো রাষ্ট্রদূতের মালা খানিও তাহার গলায় শোভা পাইয়া থাকে! এইগুলোতো সাধারন হিসেবের প্রাপ্তি। আর অতীত হইতে বর্তমান পর্যালোচনা করিলে দেখা যাইবে যে, মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় এই সকল শাখামৃগ চরিত্রের লোকজনের উপদেষ্টা হওয়ার উদাহরনও ভুরি ভুরি। বেশি সন্তুষ্ট করে দুই একজন তো এই কোঠায় রাষ্ট্রপতি হইবার স্বপ্নও দেখিয়াছেন এবং দেখিতেছেন।

ইহা স্মরণ রাখা অতীব জরুরী যে, যেই বুদ্ধিজীবী জনতাকে যত ভাল করিয়া বিভ্রান্ত করিতে পারেন রাজনীতিতে তাহার কদর ততটাই বেশি।

পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তনের কোন সম্ভাবনা যেহেতু নাই আমরা সকলে যেন তাহাদের এই সকল অত্যাচার সহ্য করিতে পারি সেই প্রত্যাশা রাখিয়া ইতি টানিলাম।

গত পর্ব

মাহফুজুল ইসলাম সাইমুম।
তারিখঃ ০৩-১২-২০১৫।

Share

আরও খবর