ইলিশমধ্যবিত্তদের ওই একটাই সমস্যা চোখে মুখে হিংসার মনোভাব। নিজেদের সম শ্রেনীর যেমন ভাল কিছু সহ্য করতে পারে না তেমনি উচ্চ মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তদের ভাল কিছু দেখলে চোখ টাটায়। কারনে অকারনে হিংসায় আর প্রশ্নবানে জর্জারিত করে তোলে। আর উচ্চ বিত্তদের তারা দুই চোখে সহ্য করতে পারে না। সব সময় পিছে লেগে থাকে।

ভাল কিছুই সহ্য করতে পারে না এরা। নিজেরা ভোগ করতে পারে না বলে সব সময়ই অদৃষ্ট মনোভাব পোষন করে রাখে। ফাস্টফুড খেতে পারে না তাই ফাস্টফুডের বিরুদ্ধে অপপ্রচার। মরা মুরগী, বাসি তেল, মোটা হয়ে যাওয়া ফার্মের মুরগি বলে আজেবাজে কথা বলে বেড়ায়। আর অপপ্রচারে যখন কাজ হয় না, তখন মনে মনে বদ দোয়া দিতে থাকে!

এবার শুরু করেছে পহেলা বৈশাখ নিয়ে। টিভি, পত্রিকা, সামাজিক মাধ্যম গুলোতে অপপ্রচার শুরু করে দিয়েছে। পহেলা বৈশাখে ইলিশ খাওয়া আমাদের সাংস্কৃতিতে ছিলনা, আবার এখন ইলিশ মাছের প্রজনন মৌসুম। আরে বাবা আমাদের সাংস্কৃতিতেতো অনেক কিছুই ছিল না, যেমন ৩১ ডিসেম্বর নাইট, হা-ডু-ডু বাদ দিয়ে ক্রিকেট, বাংলা মিডিয়াম বাদ দিয়ে ইংলিশ মিডিয়াম, লুঙ্গি- ধূতি বাদ দিয়ে কোর্ট-টাই? তোরাইতো সাংস্কৃতি চেঞ্জ করেসিছ! আর ইলিশেরতো খেয়ে দেয়ে কাজ নেই সারা বছর বাঙ্গালিদের মত ডিম দিয়ে বেড়াবে। আর যখন ইলিশের মৌসুমে সস্তায় ইলিশ পাওয়া যায় তখন ডিম ওয়ালা আর জাটকা মধ্যবিত্তরা দু’টোই গোগ্রাসে গেলে।

আরে বাবা এখন তোরা কি এক হালি ইলিশ ৪০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে খেতে পারবি? পারবিনাতো? এই জন্য আমাদের প্রতি তোদের এত হিংসাত্বক মনোভাব। নিজেরাও খেতে পারবি না, আমাদের ও খেতে দিবি না।

শুধু ইলিশ না। ফল, শাক-সব্জি, মাছ সব কিছুর বেলাই মধ্যবিত্তদের হিংসুটে মনোভাব। এরা ভাল ফলটা খেতে পারে না। দর-দাম করে। আরে দর দাম করলে ভালটা খেতে পারবি? বিক্রেতারাতো বাসায় এসে ভালটা আমাদের দিয়ে যায়, ভাল মাছটা কখনো খেতে পেরেছিস?

জানতাম, না বলবি। সেটাতো বাড়িতে এসে দিয়ে যায় অথবা কল করে বলে দেয়, চাকর বাকর দিয়ে আমরা নিয়ে আসি। মধ্যবিত্তদের জন্য পচা, বাসি শাক সবজি, ফল, মাছ রেখে দেয় কারন সবাই এসে দরদাম করে এতে অনেক সময় নষ্ট হয়, এগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। আর এদের জন্যই খাবারে ফরমালিন ভরে রাখে বিক্রেতারা। দরদাম করে সময় নষ্ট করবি,আর ফরমালিন মেশানো খাবার খাবি না?

এতো গেলো খাবার। এবার আসি, ইলেক্ট্রনিক পণ্য। মধ্যবিত্তদের সব সময়ই হিংসাত্বক মনোভাব। যা দেখবে আমরা ব্যবহার করছি, তা তাদের চাইই চাই। টিভি, ফ্রিজ সব দু নম্বরি (মেড ইন বাংলাদেশ) ব্যবহার করে। লেখা থাকে থাইল্যান্ড, কোরিয়া। দোকানদার গুলিও মধ্যবিত্ত বাঙ্গালিদের মনোভাব সহজে বুঝতে পারে। যার জন্য দুই নম্বর মাল ধরিয়ে দেয়।

দামি গাড়ি দেখলে হিংসায় জ্বলে যায়। পিওর মধ্যবিত্ত হচ্ছে বাংলাদেশের সাংবাদিক শ্রেণিরা। টিভিতে নিউজ করে ঢাকা শহরে প্রাইভেট গাড়ি রাস্তার ৭০ ভাগ জায়গা জুড়ে থাকে। আরে বাবা আমরা দ্বিগুন টাকা ট্যাক্স দিয়ে গাড়ীতে চড়ি। তোরা পারলে কিনে চড়। তা তো পারবি না, কেনার মুরোদ নেই। কিন্তু মনে হিংসা আছে! পাবলিক বাসে ঝুঁলে অফিসে এসে অফিসের গাড়িতে চড়ে এস্যাইনমেন্টে বের হয় আবার বাসে ঝুঁলে বাসায় ফেরে। এদের মনোভাব কেন হিংসাত্বক হবে না।

সব সময় ভয়তে থাকি কখন গাড়ির কাঁচ গুলো ইচ্ছে করে ভেঙ্গে দেয়। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের ছেলেপেলের শখ গাড়ীর কাঁচ ভাঙ্গা অথবা হরতালের নামে গাড়ির কাঁচ ভেঙ্গে কিংবা গাড়ি জ্বালিয়ে এক ধরনের আনন্দ উপভোগ করা।

আবার এরা সস্তা পারফিউম গায়ে মেখে লোকাল বাসে ওঠে অফিসে অথবা ক্লাসে আসে, সস্তা পারফিউম আর গায়ের ঘামের দূর্গন্ধ মিলে মিশে একাকার হয়ে আবার বাসায় ফেরে। এরাতো আমাদের মত ধনীদের হিংসা করবেই। বাড়ি থেকে আসবে পান্তা খেয়ে বাইরে এসে খাবে কোক। আবার ঢেকুর তুলবে দামি মদের।

মধ্যবিত্তদের হাতে গোনা অর্থে সমস্ত মাস চলতে হয়। এখন বাজারে বড় এক হালি ইলিশের দাম ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার টাকা। অনেক মধ্যবিত্তদের এক, দেড়, দুমাসের বেতন। তারাতো এত টাকায় ইলিশ খেতে পারবে না, তাই আমাদের খেতেও দেবেন। আঙ্গুর ফল টকের মত অবস্থা।

এই জন্য আমি মধ্যবিত্তদের পছন্দ করিনা !!

আলমগীর খায়ের।
১২-০৪-২০১৬।

Share

আরও খবর