৪ নভেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রেলহেড অয়েল ডিপোতে পেট্রোলের মজুদ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় পেট্রোলের সরবরাহ প্রায় শূন‌্যের কোটায় নেমে এসেছে।

এ ডিপোতে দৈনিক পেট্রোলের চাহিদা ১ লাখ ৮০ হাজার লিটার। কিন্তু বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে মাত্র ১ লাখ ৮০ হাজার লিটার পেট্রোল ডিপোতে সরবরাহ করা হচ্ছে।

ডিপোর একটি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মৌলভীবাজারের রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড থেকে সড়ক পথে পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে পেট্রোল সরবরাহ করা হতো। পেট্রোবাংলার আওতাধীন পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড এক দিন পর পর ট্যাংক লরিতে করে ৪ লাখ ৫ হাজার লিটার পেট্রোল পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে সরবরাহ করত। ডিপো থেকে প্রতিদিন উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধার ৪৫০টি পাম্পে পেট্রোল সরবরাহ করা হতো। প্রায় এক মাস ধরে রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড থেকে হঠাৎ করে পেট্রোল সরবরাহ কমে যাওয়ায় ডিপোতে পেট্রোল সংকট দেখা দিয়েছে।

রেলহেড অয়েল ডিপোর ইনচার্জ আজম খান বলেন, যেখানে আগে তিন কোম্পানি মিলে সপ্তাহে ১০০ লরি পেট্রোল আসত, সেখানে সপ্তাহে আসছে মাত্র ৩০ লরি পেট্রোল। বর্তমানে গ্যাস ফিল্ড থেকে যে পরিমাণ পেট্রোল আসছে তা আমরা ডিলার ও এজেন্টেদের সরবরাহ করছি।

দিনাজপুর জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রওশন আলী সরকার বলেন, পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে মাসখানেক ধরে পেট্রোলের সংকট চলছে। পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে পেট্রোল সংকট চরমে। ইতোমধ্যে অনেকে পেট্রোল পাম্প বন্ধ রেখেছেন। দ্রুতই সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পেট্রোল সংকট চরম আকার ধারণ করবে।

তিনি বলেন, পেট্রোল সংকটের ব্যাপারে বগুড়ায় তিন কোম্পানির এজিএমদের সাথে আলোচনা হয়েছে। তারাও সংকট সমাধান করতে পারেননি।

এদিকে, পেট্রোল নিতে আসা ট্যাংক লরিগুলো টার্মিনালে পাঁচ-সাত দিন অপেক্ষা করেও পেট্রোল না পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব‌্যক্ত করেছেন।

Share

আরও খবর