২৫ অক্টোবর, বিনোদন ডেস্কঃ গত পাঁচ বছর নিয়মিত এ সময় দেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব’। দেশি-বিদেশি শিল্পীদের পরিবেশনায় আর্মি স্টেডিয়াম ভরে উঠতো সকল শ্রেণীর দর্শকের উপস্থিতিতে। এ প্রজন্মের সংগীত পিপাসুদের কাছেও প্রিয় হয়ে উঠেছিল এই সংগীত উৎসব। আয়োজনও হয়েছিল বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত। কিন্তু ভেন্যু সংকটের কারণে নিরাপত্তা ইস্যুতে এবার হচ্ছে না সেই অনুষ্ঠান। এ নিয়ে সংগীতশিল্পী, সংগীতজ্ঞ, শ্রোতা অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় সংগীতাজ্ঞনের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে। সুরকার, গীতিকার আলম খান বলেন, ভেন্যু জটিলতার কারণে এবারের উচ্চাঙ্গসংগীত অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। তবে আমি মনে করি, ভেন্যু পাওয়া উচিৎ ছিলো। আমাদের সংগীতের সবচেয়ে উঁচু যে স্থান, সেই জায়গাটা এ বছরের জন্য বাতিল হয়ে গেলো। এটা দুঃখজনক। এ ধরনের আয়োজন দেশের জন্য প্রয়োজন। গত পাঁচ বছর খুব সুন্দরভাবে অনুষ্ঠানটি হচ্ছিল। আমরা আশা করবো খুব দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করে আগামীতে আবার অনুষ্ঠানটি শুরু হবে।

সুরকার, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল বলেন, গত পাঁচ বছর এই আসরটি নিয়মিত হয়েছে। এর জন্য অনেক সময় দিতে হয়েছে আয়োজকদের। সংগীতপ্রিয় মানুষগুলো রাতভর অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেছেন। কারো মুখে কখনও শুনিনি অনুষ্ঠানটি খারাপ লেগেছে। এবং আমাদের দেশের শিল্পীরাও সেখানে গিয়ে সংগীত উপভোগ করেছেন।

আমাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ভাবতে হবে। রোহিঙ্গা ইস্যু একটি বড় বিষয়। বিশ্বব্যাপী মানুষ বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছে। আমাদেরকে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হচ্ছে যেন কোনো রকম বিপদ না আসে। সরকারের মাথায় রোহিঙ্গা ইস্যু রয়েছে। এই অবস্থায় বিদেশ থেকে কোনো শিল্পী এনে কোনো রকম বাজে পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে দায় কে নেবে? আমার মনে হচ্ছে, অনুষ্ঠানটি এ সময় না করার সিদ্ধান্ত ঠিকই আছে। মনে রাখতে হবে, একই সময় ফ্রান্সের পোপ আমাদের দেশে আসবেন। সেখানেও একই বিষয়। সুতরাং সব কিছু মিলিয়ে এখন ওপেন স্টেজে ফাংশন করা উচিৎ হবে না। নিরাপত্তার জন্য এ ধরনের সিদ্ধান্ত সঠিক বলে মনে করি। পাশাপাশি এ-ও বলব, আমাদের দেশের জন্য এ ধরনের আয়োজনের প্রয়োজন রয়েছে। এক বছর না হলে কোনো সমস্যা নেই। আমরা এখন যে ধরনের সমস্যার ভেতর দিয়ে যাচ্ছি সেগুলোর সমাধান হলে সামনের বছর এই অনুষ্ঠান আবার করা যাবে।

গীতিকার, সুরকার, চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, উচ্চাঙ্গসংগীতের উৎসব কেন হচ্ছে না বিষয়টি আমি অবগত নই। তবে এটুকু বলা যায় যে, যে কোনো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড হওয়া উচিৎ। যেহেতু বাংলাদেশ সংস্কৃতির দেশ। আমি মনে করি, সংস্কৃতি সব সময় প্রসারিত হয় আলোচনা, চর্চা ও কর্মে। অতএব সেটা যদি হয় তবে ভালো। তবে এটা না হওয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে আমি জানি না।

Share

আরও খবর