শিক্ষামন্ত্রী৩ জানুয়ারি, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, শিক্ষার মানের দিক দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকবে না। সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত করার জন্য ‘অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল অ্যাক্ট’ খুব শিগগিরই করা হচ্ছে।

মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে ‘অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল অ্যাক্ট’ করার বিষয় নিয়ে রাজধানীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটরিয়ামে রোববার দুপুরে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসেন। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতে ‘অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল অ্যাক্ট’ এর একটি খসড়া সকলকে পড়ে শোনানো হয়। এতে কোন ত্রুটি থাকলে উপস্থিতদের মতামত দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ কিছু শব্দ, কিছু ধারা সংশোধনের জন্য অনুরোধ জানান। অনিয়ম হলে শাস্তির বিধানে জেল না রেখে আর্থিক দণ্ডের বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে অনুরোধ জানানো হয়।

ধারাগুলো সংশোধন করে আরো একটি সেমিনার করে চুড়ান্ত করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সকলের মতামত নোট করা হয়েছে। এই আইনের ব্যাপারে দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টার পরে আজ আমরা এ পর্যায়ে পৌঁছেছি। আপনারা একপ্রকার ধরেই নিতে পারেন যে, আইনটি চুড়ান্ত হয়েই যাচ্ছে। আপনাদের মতামত যুক্ত করে ত্রুটিমুক্ত একটি আইনের খসড়া তৈরি করে আবারো আমরা আপনাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবো।’

শিক্ষাসচিব সোহরাব হোসেন বলেন, ‘পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত করার পর আইনটি পাশের ব্যাপারে মন্ত্রিপরিষদে পেশ করে চুড়ান্ত করার চেষ্টা করা হবে।

এসময় কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার মূল লক্ষ্য হচ্ছে জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। গুণগত মানের জন্য দরকার ভাল শিক্ষক। আমরা অনেক সময় শিক্ষক-ছাত্র, শিক্ষক-শিক্ষক বা ছাত্র-ছাত্রের মধ্যে দ্বন্দ লক্ষ্য করি। জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে এই দ্বন্দ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মানুষের মত মানুষ হতে হবে। আর এই শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব শিক্ষকদেরই নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অবস্থান আমাদের মাথায়। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হচ্ছে জাতিকে এগিয়ে নেওয়ার সৈনিক। বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা উন্নত করার জন্য তারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিনামূল্যে বই বিতরণে টাকা নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে- এমন অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ঝালকাঠির একটি স্কুলে বই নেওয়ার জন্য ৩’শ টাকা চাওয়া হয়েছে। আমি খবর পেয়ে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছি তাঁর উপস্থিতিতে বই বিতরণের। আমরা শিক্ষাকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

শিক্ষকদের কর্মবিরতি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় শিক্ষকদের পক্ষে কথা বলে আসছি। শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে আলোচনা চলেছে। হয়তো একটা সমাধান আসতে পারে।

Share

আরও খবর