১৭ ডিসেম্বর, অনলাইন ডেস্কঃ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদের উপনির্বাচন নিয়ে আজ আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ক্ষেত্রে ঢাকা উত্তরের উপনির্বাচন ও নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডের ভোটের পাশাপাশি দক্ষিণেও সম্প্রসারিত ১৮ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ভোট করতে চায় নির্বাচন কমিশন। আজ রবিবার ১৫তম নির্বাচন কমিশন সভায় এ-সংক্রান্ত ‘এজেন্ডা’ রাখা হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বেলা ১১টায় এ সভা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আজকের সভায় নির্বাচনের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে কমিশন তাদের মতামত জানাতে পারে।

এদিকে ঢাকা উত্তরের মেয়র পদের মনোনয়ন ও নতুন যুক্ত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদের মনোনয়ন পেতে প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগও করছেন তারা। নির্বাচন হওয়া না হওয়ার বিষয়ে ইসির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে রাজনৈতিক দলগুলো। ইসি নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিলেই প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ-বিএনপি তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করবে। যদিও মেয়র পদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করছেন। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে উপনির্বাচনের সময় অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য সম্প্রসারিত উত্তর-দক্ষিণের ৩৬টি সাধারণ ও সংরক্ষিত ১২টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদেও ভোটের পরিকল্পনা করছে ইসি।

ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চিঠিপত্র এসেছে। উত্তরের এ উপনির্বাচন নিয়ে ওয়ার্কিং পেপার তৈরি করার নির্দেশনা দিয়েছেন সিইসি। রবিবার কমিশনের সভা রয়েছে। এতে ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তৈরি করা কার্যপত্র পেয়ে সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। আলোচ্যসূচির বিষয়ে ইসির উপসচিব (সংস্থাপন) মো. শাহেদুন্নবী স্বাক্ষরিত সভার নোটিসে বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রের শূন্য পদে নির্বাচন। সেই সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্প্রসারিত অংশে নতুন গঠিত ওয়ার্ডগুলোয় নির্বাচন। নির্বাচন পরিচালনা শাখার ইসির যুগ্ম-সচিব (চলতি দায়িত্ব) ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত কমিশন সভায় উপস্থাপনের জন্য তৈরি করা কার্যপত্রে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশন আইনে বর্ধিত ওয়ার্ডে সাধারণ নির্বাচন-সংক্রান্ত বিধান পরিলক্ষিত হয় না। বিদ্যমান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনসহ যে কোনো কার্যক্রম গ্রহণে বর্ধিত ১৮ ওয়ার্ডের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৮টি ওয়ার্ডের ক্ষেত্রেও বিষয়টি বিদ্যমান। সেই সঙ্গে ২ থেকে ৩১ জানুয়ারি ভোটার তালিকা প্রকাশ, ১ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনার জন্য বলেছে ইসি সচিবালয়।

ফরহাদ আহাম্মদ খানের প্রস্তুত করা কার্যপত্রে বলা হয়েছে, উত্তরের মেয়রের শূন্য পদে উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্ধিত ওয়ার্ডে নির্বাচনের জন্য অনুরোধে ছয়টি বিষয় পর্যালোচনা আবশ্যক। এর মধ্যে মেয়রের শূন্য পদে উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে বর্তমান এখতিয়ারাধীন এলাকা, সীমানা ও ওয়ার্ড; শূন্য পদে উপনির্বাচনের জন্য ওয়ার্ড বিভক্তি ও ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাস; বিভক্তিকৃত ওয়ার্ড ও পুনর্বিন্যস্ত ভোটার তালিকার সিডি প্রাপ্তির সর্বশেষ অবস্থান; উপনির্বাচনের প্রাক্কালে হালনাগাদকৃত খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ও নিষ্পত্তিবিষয়ক কার্যক্রমে প্রভাব; দুই সিটির সীমানা বাড়ানোর পর ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধি ও ওয়ার্ড বিভক্তি চূড়ান্তের পর পরিষদের আগের সদস্য ও বর্তমান সদস্যসংখ্যা এবং পরিষদ গঠনবিষয়ক বিধান পর্যালোচনা; দুই সিটিতে সীমানা ও ওয়ার্ড বাড়ায় পরিষদের বা বর্ধিতাংশের কাউন্সিলর পদের মেয়াদ বা নির্বাচনের বিষয়ে কোনো জটিলতা অথবা আইনগত দিক পরীক্ষা করা। ২৮ এপ্রিল ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তরের ভোট হওয়ার পর ১৪ মে প্রথম সভা হয়। সে হিসাবে উপনির্বাচনে নির্বাচিত মেয়র বাকি মেয়াদের জন্য, অর্থাৎ ২০২০ সালের ১৩ মে পর্যন্ত বহাল থাকবেন। ৩০ নভেম্বর ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক মৃত্যুবরণ করেন। ১ ডিসেম্বর থেকে পদটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে ৪ ডিসেম্বর মেয়রের শূন্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত মন্ত্রণালয়ের অনুরোধপত্র ইসি সচিবের কাছে পাঠানো হয়। ৯০ দিনের মধ্যে (২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে) নির্বাচন করার আইনি বাধ্যবাধকতার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

পরীক্ষার মধ্যে ভোটের দিন খুঁজছে ইসি : ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচনের বিষয়ে আজকের আনুষ্ঠানিক সভায় ভোটের সম্ভাব্য দিনক্ষণ উপস্থাপন করা হতে পারে। সূত্র জানিয়েছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি এবং ২২ ফেব্রুয়ারি ভোটের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে চিন্তা করছে সচিবালয়। এ জন্য এসএসসির একটি পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া লাগতে পারে। জানুয়ারির শুরুতে তফসিল দেওয়ার চিন্তা মাথায় নিয়ে সচিবালয় এ পরামর্শ দেবে আজকের সভায়। তবে ভোট হওয়া-না হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে নির্বাচন কমিশন।

জানা গেছে, ১৩, ১৫ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১৫ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা পিছিয়ে দিলে দুই বিষয়ের পরীক্ষার মধ্যে ভোট করার জন্য তিন দিন সময় ইসির হাতে থাকবে। দুটি পরীক্ষা পেছালে চার দিন সময় পাবে। একইভাবে ২০, ২২ ও ২৪ ফেব্রুয়ারিও এসএসসি পরীক্ষা রয়েছে। ২২ ফেব্রুয়ারি ভোট করতে হলে ওই দিনের পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে হবে। তবে ভোট করার জন্য দুই বিষয়ের পরীক্ষার মধ্যে তিন দিন সময় পাবে কমিশন। আর ২০ ও ২২ তারিখের পরীক্ষা পিছিয়ে দিলে ভোট করার জন্য ইসি পাঁচ দিন সময় পাবে। সে হিসাবে পরীক্ষার তারিখ বিশ্লেষণ করে সিইসির নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত প্রস্তুত করা হয়েছে। আজ কমিশন সভায় তা উপস্থাপন করা হবে।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা রয়েছে। এ জন্য পরীক্ষার মধ্যে ভোট করার জন্য একটি উপযুক্ত সময় চিন্তা করা হচ্ছে। এ জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে একটি পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভোটের জন্য ৪৫ দিন হাতে রেখে তফসিল দেবে কমিশন।

Share

আরও খবর