বিপাশা হায়াত ১বিপাশা হায়াত। নব্বই এর দশকে টিভি নাটকে সু-অভিনয়ের জন্য খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। তার অভিনীত প্রথম নাটক ১৯৮৩ সালে বিটিভি-তে প্রচারিত হয়। টিভি নাটকের পাশাপাশি মঞ্চ নাটক ও চলচ্চিত্রে দারুন সফল এই অভিনেত্রী। ১৯৮৫ সাল থেকে মঞ্চে নিয়মিত অভিনয় শুরু করেন। মঞ্চে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় দলে অভিনেত্রী হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে অভিনয়ের পাশাপাশি এই দলে সেট ডিজাইনার হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি বিখ্যাত টিভি অভিনেতা আবুল হায়াতের কন্যা এবং অভিনেতা ও পরিচালক তৌকির আহমেদের স্ত্রী। বিয়ের পর অভিনয় ছেড়ে দিলেও আঁকাআঁকি, নাটকের পান্ডুলিপি লেখা এবং নাটক পরিচালনার কাজ করছেন নিয়মিত। তিনি চল্লিশটির মত টেলিভিশন নাটক লিখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের পেইন্টিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি ২০০৯ সালে মে মাসে এসিড আক্রান্ত নারীদের সাহায্যার্থে আয়োজিত প্রদর্শনীতে তিনি নিজের আঁকা ছবি দান করেন। সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানের বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জে শুরু হয়েছে তাঁর আঁকা ছবি নিয়ে ‘রি-আল্মস অফ মেমোরী’ শীর্ষক প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনীর ফাঁকে তিনি ‘টাইমস টু হ্যালো’র সাথে কিছুটা সময় আড্ডা দিলেন জানালেন তাঁর ক্যানভাসে রংয়ের আঁচড়ে প্রকাশিত হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি ও বিমূর্ত আবেগের কথা।

দি টামইস ইনফোঃ কেমন আছেন?
বিপাশা হায়াতঃ ভাল আছি।
দি টামইস ইনফোঃ ‘স্মৃতি’ বিষয় নিয়ে কাজ করার যৌক্তিকতা কতটুকু?
বিপাশা হায়াতঃ কোন শিল্পীর শিল্পকর্ম তৈরি কিন্তু তাঁর স্মৃতি থেকে। আর সবসময়ই শৈল্পিক কাজগুলো স্মৃতি থেকে হয় । কবির কবিতা লেখা, কোন লেখকের গল্প লেখা,ক্যানভাসের বিমূর্ত আবেগ নিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রঙের আচড়-সব কিছুর মধ্যেই স্মৃতি দৃশ্যমান। মানুষের প্রতিদিনের ক।জ-কর্মে স্মৃতির এক বিশেষ গুরুত্ব আছে।শিল্পের ক্ষেত্রে স্মৃতির গুরুত্ব অবিশ্বাস্য ।আমি অতীত স্মৃতি কাতর একজন মানুষ । ভাবনার দরজায় প্রায় সময়ই ছোটবেলার রঙিন দিনগুলো এবং সুন্দর মুহূর্তগুলোর চলে আসে বারবার।। তাই বলা যায়, এই সব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রঙিন ভাবনা উঠে এসেছে আমার ‘রি-আল্মস অফ মেমোরী’ প্রদর্শনীতে।
দি টামইস ইনফোঃ প্রদর্শনীবিপাশা হায়াত ‘রি-আল্মস অফ মেমোরী’ সম্পর্কে জানতে চাই?
বিপাশা হায়াতঃ আমার জন্য এই প্রদর্শনী ‘স্মৃতির রাজ্যে’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।কারণ , বরাবরই আমি আমি বিমূর্তধারা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী । এই আর্ট এক্সিবিশনে আমি কাজ করেছি স্মৃতি বিষয় নিয়ে। দীর্ঘ সময় নিয়ে স্মৃতিকে বেইজ করে আমি ছবি আঁকছি।তারই প্রতিচ্ছবি আমার এই প্রদর্শনী।এই প্রদর্শনীতে আমার ২৮টি চিত্রকর্ম এবং ৮টি ড্রইং রয়েছে। আমার দেখা মনোজগতের বহিঃপ্রকাশ আমার এই শিল্পকর্ম । আমার বিশ্বাস, মানুষ তার জীবনের প্রতিটি কাজই করে থাকে তাদের স্মৃতি থেকে। তাই এবারের ছবিতে আমার নিজের স্মৃতি নিয়ে খেলার চেষ্টা করেছি। জানিনা কতটুকু করতে পেরেছি।
দি টামইস ইনফোঃ অভিনয় জগত আর শিল্পীর ক্যানভাসে রঙ নিয়ে খেলা, কোনটাতে বেশী স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
বিপাশা হায়াতঃ আমি ছবি আঁকাতেই বেশী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি । কারণ, আমার মনোজগতের রাজ্য আমি একমাত্র ক্যানভাসেই ফুটিয়ে তুলতে পারি অনায়াসেই । আমি সবসময় এই জগতে ডুবে থাকতে চাই।
দি টামইস ইনফোঃ হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি ও বিমূর্ত আবেগ আপনার এই এক্সিবিশনে কতটুকু দৃশ্যমান?
বিপাশা হায়াতঃ আমার ছবির টুকরো অংশগুলো প্রতিনিধিত্ব করে আমার টুকরো স্মৃতিগুলোকে।চিত্রকর্মের স্মৃতিগুলোকে আলাদা করা লাইনগুলো আহ্বান করে আমার বর্তমানকে।ক্যানভাসটা মুলত এই দুই সময় অর্থাৎ অতীত-বর্তমান এবং আমার মৌলিক আবেগ প্রকাশের উপযুক্ত স্থান।আমি ছোটবেলা থেকে রঙের আঁচড়ে সৃষ্টি ভাবনাগুলো নিয়েই আছি। সেই সুত্রেই সকল ভাবনার প্রকাশ আমার প্রদর্শনী। আর আমি সব সময় নিজস্ব অনুভূতি নিয়ে কাজ করতে চাই।
দি টামইস ইনফোঃ রং তুলির জগতের সাথে অভিনয়,লেখালেখি আর মঞ্চ কিভাবে সমন্বয় করেন?
বিপাশা হায়াতঃ আমার ছবি আঁকা বা রং তুলি নিয়ে খেলা আসলে ছোটবেলা থেকেই। আর অভিনয়,লেখালেখি বা মঞ্চ-সবই আমার ভাললাগার যায়গা । সব গুলোই এক একটা ক্ষেত্র। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছবি আঁকা নিয়ে আমি বেশী ব্যস্ত থাকতে চাই এবং থাকিও।এগুলোর মধ্যেই মঞ্চ,লেখালেখি কিম্বা অভিনয়ের জন্যে সময়ও বের করতে হয়।
দি টামইস ইনফোঃ আপনাকে ধন্যবাদ আমাদের সময় দেয়ার জন্য।
বিপাশা হায়াতঃ আপনাদেরকেও ধন্যবাদ।

সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন পান্থ আফজাল।

Share

আরও খবর