Abason_Khatbg_589660465১ মে, ন্যাশনাল ডেস্কঃ আবাসন খাতের ৭০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগকে ঝুঁকিমুক্ত করতে সরকারের সহযোগিতা চাইছেন সংশ্লিষ্টরা। শহরাঞ্চলের বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর মাথা গোঁজার ঠিকানা নিশ্চিত করতে বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসা শিল্পদ্যোক্তাদের জন্য সরকারের নীতি-সহায়তা প্রয়োজন বলে জোর দিচ্ছেন তারা।

অন্যতম এই শিল্প খাতের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। সরকারের সহযোগিতা না পেলে এই বিপুল সংখ্যক মানুষ তাদের কাজ ও জীবীকা হারাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিল্পদ্যোক্তারা। এই খাতে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ অব্যাহত রাখার দাবি করেছেন তারা। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতিতে আবাসন খাতকে উৎপাদনশীল খাতের মর্যাদা দিয়ে ঋণ বিতরণের বাধা দূর করা এবং ক্রেতাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় আলাদা পুনরর্থায়ন তহবিল গঠন করারও তাগিদ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আবাসন নির্মাণকালে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ ও পানির বিল দ্বিগুণ হারে না নিয়ে বাণিজ্যিক রেট নির্ধারণ করার দাবি করেছেন।
আবাসন ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় আবাসন খাতে মন্দার প্রকোপ পড়েছিল যা এখন কেটে যাচ্ছে। তবে তা সত্ত্বেও আবাসন মালিকদের হাতে বিপুলসংখ্যক অবিক্রীত ফ্ল্যাট রয়েছে, যা এখনো স্বল্পমূল্যে ক্রেতারা কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। এখন ফ্ল্যাটের দামও স্থিতিশীল রয়েছে। তাই এখনই ফ্ল্যাট কেনার সোনালি সময়। এর সঙ্গে সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে এ খাত বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাবে। ক্রেতারাও স্থিতিশীল মূল্যে সহজে বাসস্থান খুঁজে পাবেন।

রিহ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ বলেন, ‘আবাসন খাত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ খাতে পরিণত হয়েছে। এ খাতের উন্নয়নে সরকারের কাছ থেকে নীতি-সহায়তা পাচ্ছি না তা নয়, তবে তা কাঙ্ক্ষিত নয়। আবাসন খাতের আরো বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে, যা দূর করার জন্য আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছি। মন্ত্রণালয়গুলো থেকেও বিবেচনার আশ্বাস পাওয়া গেছে। আশা করি, কেবল আবাসন খাতই নয়, এ খাতের ওপর নির্ভরশীল অন্যান্য খাতের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের স্বার্থে সরকার সমস্যাগুলো দূর করবে।’

আবাসন খাতের বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে তা সমাধানে উদ্যোগ নিতে গত ১৩ জানুয়ারি গভর্নরের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও। তাতে মন্ত্রী লিখেছেন, ‘এ মুহূর্তে গৃহায়ণ খাতে মারাত্মক সংকট চলছে। অবশ্য বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এ জন্য বিশেষভাবে দায়ী। কিন্তু এ খাতটি বেশ কিছুদিন ধরে, অন্তত দুই বছর ধরে নানা সমস্যার সম্মুখীন আছে। এ খাতে এর আগে ব্যাপক বিনিয়োগ হওয়ার ফলে অবিক্রীত প্লট বা ফ্ল্যাটের সংখ্যা খুব বেশি। এ জন্য তাদের হাতে মূলধনের পরিবর্তে ঋণের বোঝা খুবই ভারী। এ খাতে ঋণপ্রবাহ এবং ফ্ল্যাট বা প্লট বিক্রিতে সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।

সূত্রঃ বাংলা নিউজ ২৪.কম

Share