২৭ ফেব্রুয়ারি, অনলাইন ডেস্কঃ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং আন্দোলন— দুটিকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে গণ্য করছে বিএনপি। ব্যাপক নির্বাচনী পরিকল্পনার পাশাপাশি বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলনের কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। এ লক্ষ্যে আগামী মাসে ঢাকায় জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে বড় আকারের একটি জনসভার আয়োজন করবে বিএনপি। চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এতে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করবেন। আগামী সংসদ নির্বাচনের দিন-তারিখ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর নির্বাচনকালীন ‘সহায়ক সরকারের’ রূপরেখাসহ ‘লেভেল প্লেয়িং গ্রাউন্ড’ তৈরির জন্য সরকারকে সংলাপ ও সমঝোতার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও দেবেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়াও আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদেও কর্মসূচি দিতে যাচ্ছে তার দল। গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিকে ইতিমধ্যেই অযৌক্তিক ও গণবিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছে দলটি।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ সম্পর্কে বলেন, আশা করি আগামী নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক। তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন আর এদেশে কখনো আসবে না। অবাধ ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের মাধ্যমেই এদেশে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বশীল একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যেই বিএনপি সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে একটি অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রস্তাব দেবে। সরকার তা না মানলে রাজপথেই তার ফয়সালা হবে।

বিএনপির অন্যতম নীতি-নির্ধারক ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং আন্দোলন দুটি একই সঙ্গে চলবে। আগামী দিনের সব কর্মকাণ্ডই হবে নির্বাচনকে ঘিরে। পাশাপাশি দলীয় চেয়ারপারসনসহ সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা-মোকদ্দমা মোকাবিলায়ও চলবে আইনি লড়াই। আন্দোলন ও নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশে পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমেই আশা করি ভোটাধিকারসহ মানুষের যাবতীয় অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আর কখনো ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো প্রহসনের নির্বাচন ফিরে আসবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দলের নীতি-নির্ধারণী মহলের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে। কোনো উসকানিতেই বড় কোনো হাঙ্গামায় জড়াবে না দলটি। নির্বাচনের আগে মাঠ দখলে রাখাই হবে মূল উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্যে ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাপক সভা-সমাবেশ এবং ব্যাপক গণসংযোগমূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে। সাংগঠনিকভাবেও দল ও জোটের সব নেতা-কর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিটি এলাকায় সুসংগঠিত কার্যক্রম শুরু করার জন্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্র থেকে বার্তা পাঠানো শুরু হয়েছে। এক এক এলাকায় কয়েকজন করে নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। কী মূল ধারা, আর কী সংস্কারপন্থি সব মতভেদ ভুলে গিয়ে সবাইকে একত্রে কাজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া।

গত রবিবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে ঢাকা বারের নবনির্বাচিত আইনজীবীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও তিনি সব পেশাজীবী নেতাদের যার যার অবস্থান থেকে আন্দোলন ও আগামী নির্বাচনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের আন্দোলন ও নির্বাচনী প্রস্তুতি দুটি একই সঙ্গে চলবে। জনগণের ভোটাধিকারসহ তাদের সব গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠাই হচ্ছে বিএনপির মূল লক্ষ্য। এ জন্য দরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকার। আর অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য সেই নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন সবার জন্য সমান একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’। আমাদের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ লক্ষ্যে সময়মতো একটি ‘রূপরেখা’ উপস্থাপন করবেন। আন্দোলনের যখন যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে, তা সময়মতো আপনাদের (মিডিয়াকে) জানানো হবে। জানা গেছে, দেশের ভিতরে নির্বাচনী প্রস্তুতির পাশাপাশি নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সমর্থন লাভেরও চেষ্টা করছে বিএনপি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বৃহৎ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদারের আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। তবে এবারের যোগাযোগটা হচ্ছে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই এর ধরন পাল্টেছে দলটি। চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় সংশ্লিষ্ট দুজন কর্মকর্তা এর সমন্বয়ের দায়িত্বেও আছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া গত সপ্তাহে গুলশানের কার্যালয়ে গিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে এসেছেন।

টানা দুই ঘণ্টার বৈঠককালে তারা ৪০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে একান্তে বৈঠক করেন এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনসহ দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েই তাদের মধ্যে আলোচনা হয় বলে খোদ মার্কিন রাষ্ট্রদূত বৈঠক শেষে জানিয়েছেন।

Share

আরও খবর