২৭ নভেম্বর, অনলাইন ডেস্কঃ ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশান হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তৈরি করা ওই ঘটনায় জঙ্গিরা ওই রাতে ২০ জনকে হত্যা করে যাদের নয়জন ইতালি, সাতজন জাপান, তিনজন বাংলাদেশী এবং একজন ভারতীয় নাগরিক। এছাড়া সন্ত্রাসীদের হামলায় দুজন পুলিশও প্রাণ হারায়।

মূলত এ হামলা করা হয়েছিল নিজেদের অস্তিত্ব আন্তর্জাতিকভাবে জানান দিতে।

তদন্তে এমনটি জানিয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, মামলার তদন্ত আমরা শেষ করেছি। এখন এ বিষয়ে বলার কিছুই নেই। এখন প্রত্যাশা করছি আইনের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।

 তিনি আরো বলেন, এই হামলার পরিকল্পনাকারী, অর্থ-অস্ত্রের যোগানদাতা, তাদের উদ্দেশ্য কী, হামলাকারীদের কীভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তার সবকিছু এসেছে। দীর্ঘদিন এদেশে কোনঠাসা হয়ে থেকে জঙ্গিরা নতুনরূপে নিজেদের আবির্ভাব ঘটানোর জন্য মূলত এ হামলা করে। আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের জানান দিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলাও ছিল তাদের উদ্দেশ্য।  তবে এই হামলার মধ্য দিয়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তারই অংশ হিসেবে হামলার পরিকল্পনাকারী থেকে অনেকেই ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছে। এছাড়া হামলার পর অপারেশন থান্ডারবোল্টে হামলাকারী পাঁচজন জঙ্গি নিহত হয়।

পুলিশের তদন্তে এসেছে, ঘটনার দিন ছিল সাপ্তাহিক ছুটি। রমজান মাসও ছিলো শেষের দিকে। সব মিলিয়ে ঈদের আমেজ ছিল। ইফতার পর্যন্ত সবকিছু চলছিল স্বাভাবিক। তখন কেউ কল্পনাও করেনি কী ভয়াবহতার মুখে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ।

সন্ধ্যার পর পর খবর আসে গুলশানে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি চলছে।

তার কিছুক্ষণ পর খবর আসে ওইখানে বড় ধরনের ঘটনা ঘটছে। হলি আর্টিজানে দেশি-বিদেশি বেশকিছু মানুষ খেতে এসেছিলেন সেখানে দুর্বৃত্তরা তাদের জিম্মি করেছে। ঘটনা ভয়াবহ হচ্ছে আঁচ করতে পেরে তৎকালীন বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন ফোর্স নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। জঙ্গিদের হামলায় তিনি নিহত হন।

রাতে পুনরায় তাণ্ডবলীলা চালায় জঙ্গিরা। রাত ১১টার পর জিম্মিকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন।

তবে সমঝোতা না হওয়ায় পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের উদ্ধার অভিযানে পাঁচ জঙ্গি ও রেস্তোরাঁর একজন পাচক নিহত হন। অভিযানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শ্বাসরুদ্ধকর জিম্মি দশা।

এর আগে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি, ডিবি, সোয়াত, সিআইডি, ফায়ার বিগ্রেড ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিলেও জিম্মিদের উদ্ধারে অনেক সময় লেগে যায়। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) পরিচালিত সাইট ইন্টেলিজেন্স ‘আমাক নিউজ এজেন্সি’র বরাত দিয়ে হামলার দায় স্বীকার করে।

এদিকে জুলাই মাসের শেষ দিকে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দেওয়া হয়। 

মামলার তদন্তে ঘটনার সঙ্গে ২১ জন জড়িত ছিলো বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে ঘটনার দিন ও পরদিন ১৩ জন বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছে। তবে হামলার ঘটনার পর আটক হওয়া ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে নব্য জেএমবি প্রধান তামিম চৌধুরীর নাম আসে। তবে তামিমসহ এই হামলার বেশিরভাগই পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হয়। 

Share

আরও খবর