ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক১১ নভেম্বর, নিজস্ব প্রতিবেদনঃ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার রাস্তার আট লেনের চার লেনই চলে গেছে অবৈধ দখলে। বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচ থেকে শনির আখড়া, রায়েরবাগ, মাতুয়াইল, সাইনবোর্ড, চিটাগাং রোড, আদমজী ইপিজেড প্রবেশ অঞ্চল, শিমরাইল এবং কাঁচপুর ব্রিজের বিভিন্ন পয়েন্টে মূল সড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকানপাট এবং বাস, ট্রাক, লরি, কাভার্ডভ্যান, পিকআপের স্থায়ী পার্কিং।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মহাসড়কের এই অংশে বিরাজ করছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। এলোমেলো পার্কিং, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, রাস্তা দখল করে যাত্রী ডাকা এবং রাস্তার মূল অংশে দোকানপাট বসিয়ে আট লেনের রাস্তা সরু হয়ে চার লেনে পরিণত হয়েছে। ফলে এক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে ১০ মিনিটে। কখনো কখনো দনিয়া মাতুয়াইল থেকে কলেজ পর্যন্ত আসতেই চলে যাচ্ছে ১৫ থেকে ২০ মিনিট। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে চার লেনে উন্নীত হওয়ার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মহাসড়ক ব্যবহারকারীরা। শুধু তাই নয়, যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের মুখ থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত অংশে মূল রাস্তার ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে রিকশা, ভ্যান, বাইসাইকেলসহ নানা ধরনের অযান্ত্রিক যান। অবশ্য এই মহাসড়কে ধীরগতির গাড়ি চলার পৃথক কোনো লেন রাখা হয়নি। দেখা গেছে, এমন ব্যস্ত সড়কের পাশে কোনো ধরনের বাজার বসানোর নিয়ম না থাকলেও দু-এক কিলোমিটার পর পরই বসানো হয়েছে বাজার। সেই সঙ্গে শনির আখড়া, সাইনবোর্ড ও কাঁচপুর ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তার মূল অংশ দখল করে বসানো হয়েছে বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট।

সরেজমিন আরও দেখা গেছে, সাইনবোর্ড থেকে কাঁচপুরগামী সড়কের দুই পাশের চার লেন দখল করে পার্কিং করে রাখা হয়েছে বাস, ট্রাক, ট্যাংক, লরিসহ বিভিন্ন ধরনের যান। এতে পার্কিংয়ের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। ফলে বাকি দুই লেন দিয়ে যান চলাচল করছে। সেখানেও আবার গুলিস্তান ও যাত্রাবাড়ী থেকে চিটাগাং রোড ও কাঁচপুরগামী যাত্রীবাহী বাসগুলো ইচ্ছামতো যাত্রী ওঠানামা করায় সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খল পরিবেশ। চিটাগাং রোড থেকে গুলিস্তান আসার পথে বেশির ভাগ যাত্রীবাহী বাসই রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকছে দীর্ঘ সময়। যাত্রীর অপেক্ষায় এসব বাস একে অপরে সঙ্গে পাল্লাও দিচ্ছে অহরহ। আবার একে অপরের রাস্তাও আটকে দিচ্ছে হরহামেশা। এতে একদিকে যেমন অহেতুক যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, তেমন রাস্তায় বাড়ছে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা।

গত ১৩ আগস্ট আট লেনের এই মহাসড়কটি উদ্বোধনের আগে উভয় পাশের সব ধরনের দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সে কারণে উদ্বোধনের দিন আট লেনের মহাসড়কের চেহারাই ছিল অন্যরকম। এটি একদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, অন্যদিকে যুক্ত হয়েছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে। এ কারণে মহাসড়কটি রাজধানীর সঙ্গে দেশের ১৮টি জেলার যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু আট লেন সড়কের চার লেনই অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় আট লেনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ১৮ জেলার যাতায়াতকারী যানবাহন। কখনো কখনো সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজটের। গত বুধবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিকাল ৪টার পর সাইনবোর্ড এলাকা থেকে চিটাগাং রোড পর্যন্ত রাস্তায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। অথচ এই মহাসড়ক উদ্বোধনের পর প্রথম কয়েক দিন কোনো যানজটই ছিল না। এখন রাস্তার দুই পাশের দুই লেন করে চার লেনে স্থায়ী পার্কিং করে ফেলা হয়েছে। সাইনবোর্ড এলাকায় অবৈধ পার্কিংয়ের এই সারি এক কিলোমিটারেরও বেশি। কাঁচপুর ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তার অবস্থা আরও করুণ করে ফেলা হয়েছে অবৈধভাবে দোকানপাট বসিয়ে এবং গাড়ি পার্কিং করে। আট লেনের মহাসড়কটি ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রবেশ ও বহির্গমনের প্রধান করিডর। সেতু মন্ত্রণালয় বলছে, পদ্মা সেতুর লিংক রোড চার লেনে উন্নীত করার কাজ শেষ হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে আসা যানবাহনগুলো এই আট লেন মহাসড়ক ব্যবহার করে খুব দ্রুত যাত্রাবাড়ী ইন্টারসেকশন দক্ষিণাঞ্চল প্রবেশ করতে পারবে ঝামেলাহীনভাবে। কিন্তু রাস্তার দুই পাশে এমন দখলদারিত্ব আর অবৈধ পার্কিং গড়ে ওঠায় সে আশার গুড়ে বালি পড়তে যাচ্ছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, রায়েরবাগ, মাতুয়াইল, সাইনবোর্ড এলাকায় মহাসড়কের দুই পাশে আগের মতোই অবৈধ দোকানপাট বসানো হয়েছে। ব্যস্ততম এই মহাসড়কে হরহামেশাই চলছে রিকশা, ভ্যান, টেম্পো, হিউম্যান হলার, লেগুনাসহ বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন। যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচ থেকে বহির্গমন মুখ পর্যন্ত গড়ে তোলা হয়েছে ট্রাক ও পিকআপের অবৈধ স্ট্যান্ড। এ অংশের রাস্তার অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। পুরো এলাকাজুড়ে খানাখন্দ। আরেকটু সামনে এগোলে শনির আখড়া অংশে রাস্তার ওপর গড়ে উঠেছে টেম্পো স্ট্যান্ড। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে উঠেছে এসব দোকানপাট আর অবৈধ পার্কিং। এর পেছনে রয়েছে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের বিষয়। ফলে স্থানীয় প্রশাসনও এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয় না।

Share

আরও খবর