২২ জানুয়ারি, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে টঙ্গীর তুরাগতীরে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্ব ইজতেমা সমাপ্ত হয়েছে।

রোববার বেলা ১১টা ১০ মিনিটে আখেরি মোনাজাত শুরু করেন বিশ্ব তাবলিগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মুরব্বি ভারতের হজরত মাওলানা মুহাম্মদ সা’ দ।

মোনাজাত শুরুর পর ইজতেমাস্থল ও আশপাশের এলাকায় নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। মোনাজাত চলে ১১টা ৪৩ মিনিট পর্যন্ত। ৩৩ মিনিট স্থায়ী মোনাজাতে দেশ-জাতির শান্তি-কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য, সমৃদ্ধি, ইহকাল ও পরকালে মুক্তি কামনা করা হয়।

মোনাজাত চলাকালে ইজতেমাস্থল ও আশপাশ এলাকা থেকে শুধু ভেসে আসে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লির কন্ঠে ‘হে আল্লাহ, ইয়া আল্লাহু, আমিন’, ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনি। নিজ নিজ গুনাহ মাফের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধি, দুনিয়া ও আখেরাতের সব বালা-মুসিবত থেকে হেফাজতের আশায় দুই হাত তুলে অনুনয়-বিনয় করে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে রহমত প্রার্থনা করেন বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে শরিক হওয়া মানুষ।

মুসল্লিদের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. আসাদুজ্জামান কিরণ, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্যা খান প্রমুখ মোনাজাতে অংশ নেন।

শেষ দিন রোববার সকালে মুসল্লিদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনা বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম। এরপর হেদায়াতি বয়ান করেন মাওলানা মুহাম্মদ সা’ দ। হেদায়াতি বয়ান তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা ওমর ফারুক।

এর আগে দ্বিতীয় পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় শুক্রবার বাদ ফজর ভারতের মাওলানা মোহাম্মদ শামীমের বয়ানের মধ্য দিয়ে। দুপুরে অনুষ্ঠিত জুমার নামাজে ইমামতি করেন তাবলিগ জামাতের শীর্ষ স্থানীয় মুরব্বি ভারতের হজরত মাওলানা মুহাম্মদ সা’ দ। এ দিন বাদ জুমা বাংলাদেশের মাওলানা ফজলুল হক, বাদ আসর দিল্লির মাওলানা রবিউল হক ও বাদ মাগরিব হজরত মাওলানা মুহাম্মদ সা’ দ বয়ান করেন।

দ্বিতীয় দিন শনিবার বাদ ফজর ভারতের মাওলানা জমশেদ, বাদ জোহর মাওলানা মোরসালিন, বাদ আসর মাওলানা ইউসুফ এবং বাদ মাগরিব মাওলানা সা’দ বয়ান করেন।

হেদায়াতি বয়ানে বলা হয়- ভয় করতে হবে একমাত্র আল্লাহ তালাকে, অন্য কিছুকে ভয় করা যাবে না। যা আল্লাহর ভয়কে অন্তর থেকে বের করে দেয়, ইমান বিনষ্ট করে সে পরিবেশ থেকে তাকে বের করে আল্লাহর ঘর মসজিদে নিয়ে আসতে হবে। মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় করলে ফজিলত বেশি। আল্লাহ তালার হুকুমের খেলাপ করা যাবে না। যে হুকুমের খেলাব করবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে গুনাগার হবে। আমাদের নেক আমলের মধ্যে থাকতে হবে। যখন বান্দা অনুতপ্ত হয়ে অন্তর থেকে মহান আল্লাহ তালার কাছে মাফ চান, আল্লাহ তাদের গুনা মাফ করে দেন।

আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে তাবলিগ জামাতের মুসল্লিরা ছাড়াও আশপাশের জেলার মুসল্লিরা শীত উপেক্ষা করে শনিবার রাত থেকেই ইজতেমা ময়দানে আসেন। আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের আশপাশের মহাসড়ক-সড়কে (ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস থেকে ঢাকা র‌্যাডিসন পর্যন্ত, টঙ্গী-কালীগঞ্জ স্টেশন রোড থেকে মীরেরবাজার পর্যন্ত, আশুলিয়া সড়কের আব্দুল্লাহপুর থেকে বাইপাইল সড়ক পর্যন্ত) গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় ওই সব সড়ক দিয়ে রোববার ভোর থেকে মুসল্লিরা হেঁটে দলে দলে লোক ইজতেমা স্থলে আসেন। মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে টঙ্গী জংশন দিয়ে চলাচলকারী সব ট্রেন এ জংশনে যাত্রা বিরতি দিচ্ছে। আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে এ জংশন দিয়ে ১৪টি বিশেষ ট্রেন চলাচল করছে। এ ছাড়া বিআরটিসির ২২৮টি বাস যাতায়াত করেছে।

সকাল ৯টার দিকে ইজতেমা ময়দান পূর্ণ হয়ে গেলে মুসল্লিরা মাঠের আশপাশের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, কামারপাড়া সড়ক, অলিগলিতে অবস্থান নেন। পুরোনো খবরের কাগজ, পাটি, সিমেন্টের বস্তা ও পলিথিন সিট বিছিয়ে বসে পড়েন। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী বাসাবাড়ি, কলকারখানা-অফিস, দোকানের ছাদে, যানবাহনের ছাদে ও তুরাগ নদীতে নৌকায় মুসল্লিরা অবস্থান নেন। ইজতেমাস্থলের চারপাশের ২/৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে লোকে লেকারণ্য হয়ে পড়ে। ইজতেমা ময়দান ও আশপাশ এলাকায় যে দিকে চোখ যায় সে দিকেই দেখা যায় শুধু টুপি-পাঞ্জাবি পরা মানুষের কাফেলা। নানা বয়সি ও পেশার মানুষ এমনকি নারীরাও ভিড় ঠেলে মোনাজাতে অংশ নিতে ইজতেমাস্থল ও আশপাশ এলাকায় আসেন।

Share

আরও খবর