ফারজানা করিম (2)ফারজানা করিম। বেসরকারি টিভি চ্যানেল-আই এর সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার। সঙ্গীতে, কবিতা লেখা আর সংবাদ উপস্থাপনায় যেমন অনন্য উচ্চতায় তেমনি আবৃত্তি ও থিয়েটার মঞ্চেও সমান তালে দেদীপ্যমান। মিডিয়ায় ১৪ বৎসর নিজস্ব ভাবনা আর আঙ্গিকে পথচলা ফারজানা করিমের। লেখার ধরন, উপস্থাপনার বৈচিত্রতা, আবৃত্তির ঢং কিম্বা নিজস্ব ব্যক্তিত্ব, সবই তাকে করে তুলেছে সকলের থেকে আলাদা। সিরিয়াস সংবাদ উপস্থাপক, কবিতা কথায় বেঁধে রাখা বা আপন পরিমণ্ডলের মানুষগুলোর সাথে অকল্পনীয় সখ্যতা, সকল ক্ষেত্রেই উজ্জ্বল ফারজানা করিম। সম্প্রতি তাঁর স্বরচিত কবিতা ও কণ্ঠে বের হল এ্যালবাম ‘শুধু তোমার জন্য’। প্রকাশিত এই এ্যালবাম ও তাঁর মিডিয়ালাইফ নিয়েই তিনি আজ ‘টাইমস টু হ্যালো ‘র সাথে কিছুক্ষন আড্ডা দিলেন।

দি টাইমস ইনফোঃ কেমন আছেন?
ফারজানা করিমঃ জি ভাল আছি।
দি টাইমস ইনফোঃ মিডিয়ায় নিজের ব্যস্ততা নিয়ে কিছু বলুন?
ফারজানা করিমঃ ২০০৩ থেকে সংবাদ পড়া শুরু। শুরু থেকেই চ্যানেল আই এর সঙ্গে আছি এবং এখনও রয়েছি।নিয়মিত লেখালেখির অভ্যেস অনেক আগে থেকেই ছিল।তবে নিজের লেখালেখি নিয়ে বই বের করার চিন্তাটা একেবারে হুট করেই।রয়েছে ব্লগ ’ফারজানা করিম’স’,যেখানে ইচ্ছে হলেই ঢুঁ মেরে আসতে পারেন আর দেখে নিতে পারেন আমার লেখা।তবে আমার সব লেখাগুলি বইবন্দি করার ইচ্ছে প্রকাশ করে জাতীয় পাবলিশাস।তারই ফলশ্রুতিতে গত বইমেলায় প্রকাশ পায় বই’পাখি পৃথিবী’।১৯৯২ সাল থেকে শুরু করি মঞ্চে অভিনয়। যুক্ত ছিলাম প্রতিনিধি নাট্য সম্প্রদায়ে।তবে আমার অবশ্য শুরুটা গান দিয়ে।বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সাদী মোহাম্মদ এর কাছে শিখেছি রবীন্দ্রনাথের গান।গানের জগতেও একটি অ্যালবাম রয়েছে। বাসুদেব ঘোষের সুরে ‘দূর্বা’ নামের প্রথম অ্যালবাম। আর কাব্যচর্চা শুরু যৌবনে।
দি টাইমস ইনফোঃ আপনার নিজের সম্পর্কে জানতে চাই?
ফারজানা করিমঃ আমার জন্ম চট্টগ্রামে। শৈশব কৈশোরে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বীর চট্টলার পাহাড় ও সাগরের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে বড় হয়েছি।সেই প্রকৃতির রূপ আমার সব লেখায় প্রভাব ফেলেছে অকারণেই। ইংরেজী সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেছি কিন্তু গণমাধ্যমের প্রতি অকুণ্ঠ ভালোবাসার কারণে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ফিল্ম    এন্ড মিডিয়া বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করছি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতার্কিক হিসেবেও কিছু পেয়েছেন সম্মাননা পেয়েছি।
দি টাইমস ইনফোঃ আপনার স্বরচিত ও স্বকণ্ঠে নতুন আবৃত্তির এ্যালবাম ’শুধু তোমার জন্য’ কেমন হয়েছে?
ফারজানা করিমঃ একজন আবৃত্তি শিল্পী হিসেবে স্বরচিত কবিতাগুচ্ছ নিয়ে গত সেপ্টেমবারে কবিতাপ্রেমীদেরকে উপহার দেই ‘পুতল’ নামক এ্যালবাম।এই এ্যালবামটি সকলের নিকট প্রশংসিত ও সমাদৃত হয়। আর আমার ‘শুধু তোমার জন্য’ রোমান্টিক ঘরনার এ্যালবাম, রয়েছে ১২ টি কবিতা।প্রেম ও সম্পর্কই আমার ‘শুধু তোমার জন্য’ এ্যালবামের বিষয়বস্তু।এর মধ্যে ‘অদ্ভুত অসুখ’ নামের কবিতাটি আমার নিকট খুবই প্রিয়।তবে কলকাতায় মিউজিক কম্পোজিশন করা এই এ্যালবাম ’শুধু তোমার জন্য’সম্পুণ ভিন্ন ধাঁচের রোমান্টিক কবিতা সম্বলিত এ্যালবাম,যা শ্রোতাসাধারণকে কবিতার যাদুতে বুঁদ করে রাখবে।স্বরচিত কবিতায় কবির কণ্ঠে আবৃত্তি যেন এক অদ্ভুত দ্যোতনা সৃষ্টি করবে সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারি।‘শুধু তোমার জন্য’ এ্যালবামটি উৎসর্গ করা হয়েছে তাদের জন্য যারা জীবনে একবার হলেও প্রেমে পরেছে,ভালবেসেছে।তবে আমার মতে, ভালবাসা হবে সারবজনিন।এই সার্বজনীন ভালোবাসা ধরা পড়েছে এই ‘শুধু তোমার জন্য’ এ্যালবামের মধ্য দিয়ে।
ফারজানা করিম (1)দি টাইমস ইনফোঃ সংবাদ পাঠ,আবৃত্তি আর লেখালেখি একসাথে কিভাবে সমন্বয় করেন?
ফারজানা করিমঃ সংবাদ পাঠ,আবৃত্তি আর লেখালেখি প্রসঙ্গে ফারজানা করিম নিজেকে সংজ্ঞায়িত করেন ভিন্নভাবে।‘সংবাদ পাঠ আমার প্রফেশন; এটা অনেক আনন্দের ও চ্যালেঞ্জিং একটা কাজ বলা চলে। মাসে প্রায় ২৫ থেকে ২৬ দিন সংবাদ পাঠ করতে হয়। আর লেখালেখি হল আমার প্যাশন; তীব্র একটা শখ। এর জন্য নিজস্ব পরিবেশের প্রয়োজন হয়। তবে মজার ব্যাপার হল, মাঝে মাঝে সংবাদ পাঠের বিরতিতে বা অনুষ্ঠান উপস্থাপনার ফাঁকে আমার লেখালেখির অভ্যাস রয়েছে। কারণ ঐ মুহূর্তে অনেক বিষয় মাথার মধ্যে সবসময় ঘুরপাক খায়। এইগুলোই হচ্ছে নিজস্ব ভাললাগার কাজ। ‘লেখালেখি ছোটবেলা থেকেই। চট্টগ্রামের সংবাদপত্রে নিয়মিত লেখা ছাপা হত। নিজস্ব ব্লগ আর ফেসবুকে সময় পেলেই লেখালেখি করি। তবে দিনে দিনে আমার লেখা কবিতার পাঠকের সংখ্যা এত বেশী বেড়ে গিয়েছিল যে শেষমেশ বের করে ফেললাম কিছু বই, এ্যালবাম।
দি টাইমস ইনফোঃ মিডিয়া জগতে আসার পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশী?
ফারজানা করিমঃ আমি বরাবরই বিশ্বাস করি, আমার সকল সৃষ্টি ও কর্মের মধ্যে রয়েছে আমার মায়ের অবদান। মেয়ের কণ্ঠে সংবাদ পাঠ ছিল আমার মায়ের খুবই প্রিয়। মেয়ে যেন ভালোবাসা আর গর্বের সাথে এই প্রফেশনে যুক্ত থাকতে পারে তাই ছিল মায়ের একমাত্র আশা।
দি টাইমস ইনফোঃ সামনে কি চমক অপেক্ষা করছে?
ফারজানা করিমঃ তবে সামনে আরও চমক অপেক্ষা করছে। অচিরেই ‘নিরব শব্দ’ নামে প্রেমের কবিতার এ্যালবাম বাজারে আসবে। কলকাতার ছেলে অর্ক আর বাংলাদেশি মেয়ে মেঘের মধ্যে নিরব প্রেমের উপ্যাখান নিয়ে তৈরি এই এ্যালবামটি। যেখানে মেঘ তাঁর লেখা চিঠির উত্তর কখনই পায়না; কিন্তু অর্ক তাঁর লেখা চিঠিতে সকল উত্তর মেঘরুপী ফারজানাকে লিখে পাঠায়। তবে সেই চিঠির উত্তর শুধু হাওয়ায় ভেসে পাড়ি জমায় অজানা গন্তব্যে।
দি টাইমস ইনফোঃ আপনার সকল সৃষ্টির মধ্যে মঞ্চ কিভাবে যুক্ত রয়েছে?
ফারজানা করিমঃ একসময় ‘প্রমা’ আবৃত্তি সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলাম আর কাজ করেছি বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী শিমুল মুস্তাফার সাথেও। কবির কণ্ঠে কবিতা পাঠের অনুভুতি যে আলাদা বৈচিত্রতা সৃষ্টি করে তা উপলব্ধি করেছি সর্বদা। আমি আমার নিজস্ব বলয়কে সাজিয়েছি ভিন্ন ভাবনায় অনেক যত্ন করে। আমি যেমন সঙ্গীত,উপস্থাপনা বা সংবাদ পাঠকে করেছি আপন সহচর তেমনি লেখালেখি ও কবিতা পাঠকে বেঁধেছি একই কক্ষপথে। তবে কবিতা,গান বা সংবাদ পাঠে কণ্ঠের উঠানামা যে একটা অন্যকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে,তা এখনও বিশ্বাস করি মনে প্রানে।
দি টাইমস ইনফোঃ কবিতা নিয়ে দেশের বাইরে কি কোন কাজ করেছেন?
ফারজানা করিমঃ কবিতা নিয়ে দেশের বাইরে অর্থাৎ কলকাতার মঞ্চে কাজ করেছি অনেক আগেই। কলকাতায় গিয়ে নিজের লেখা কবিতা মঞ্চে পরিবেশন করেছি। তারপর এ্যালবাম ‘নিরব শব্দ’ এর কবিতাগুচ্ছ নিয়ে পুনরায় কলকাতার মঞ্চে উঠেছি। সেখানকার কবিতা বোদ্ধাদের আকুণ্ঠ ভালোবাসা পেয়েছি।
দি টাইমস ইনফোঃ আপনার পরিবার সম্পর্কে জানতে চাই?
ফারজানা করিমঃ তিন ভাই এক বোনের মধ্যে সবার আমি। তিন ভাইয়ের মধ্যে দুই ভাই ‘টুইন’।২০১২ এ মাতৃবিয়োগ হয় হজ্ব করতে গিয়ে কিন্তু বাবা এখনও ছায়ার মত সর্বদা পাশে রয়েছেন। ভালবাসার মানুষ আমির দাউদ এভ্রিডেনিনশনে রেজিন্যাল সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত রয়েছে। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছি সিদ্ধেশ্বরী, আমিনাবাদে।
দি টাইমস ইনফোঃ অবসর সময় পেলে কি করেন?
ফারজানা করিমঃ সময় ও সুযোগ হলেই বাংলাদেশের কক্সবাজারে চলে যাই সমুদ্র দেখতে কিম্বা শ্রীমঙ্গলে চায়ের বাগানে সবুজের ঘ্রান নিতে। তবে অবসর পেলেই ঘুমিয়ে নেই বেশীরভাগ সময়।
দি টাইমস ইনফোঃ আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত ব্যস্ততার মাঝে আমাদের সময় দেয়ার জন্য।
ফারজানা করিমঃ আপনাদেরকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন পান্থ আফজাল।

Share

আরও খবর